বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০
Home District গ্রামে কাজ নেই কেন?

গ্রামে কাজ নেই কেন?

১৮২ Views

পাঁচুগোপাল মান্না

চাষার ব্যাটা চাষা হবে, এমনটাই তো হওয়া উচিত। গ্রামে কিছু মাতব্বর গোছের লোকের সঙ্গে কথা বললে আপনাকে এমনটাই বলবে।

তাতে অবশ্য ভুল কিছু নেই। কারণ ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দেখা যায়, সাধারণ বাবা-ঠাকুরদার কোনো লাভজনক পেশা থাকলে, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেটাকেই আঁকড়ে ধরে। সুন্দরবনের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিকাজ। মাছ চাষকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা যায়। আর তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে পর্যটন। দুর্ভগ্যের বিষয় হল, সুন্দরবনের অর্থনীতির এই তিনটি স্তম্ভ এখনও যথেষ্ট নড়বড়ে। বেশি চাপ নিতে পারে না। ফলে কলকাতায় মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের বাড়িতে বাসন মাজা, কাপড় কাচার লোক সরবরাহ করার ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে সুন্দরবন। রোজ ভোরবেলা ক্যানিং, বনগাঁ থেকে শয়ে শয়ে কাজের লোক কলকাতা শহরে আসেন। শখ করে তো আসেন না! আপনার, আমার মতো তাদেরও ভোরবেলার আলো ফোটা পর্যন্ত লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু উপায় নেই। তাই দিনের আলো ফোটার আগেই ট্রেনে উঠতে হয়। আর তাদের বাড়ির পুরুষরা?

অল্প-বিস্তর জমি থাকলেও এখন চাষ করে আর লাভ হয় না। অনেকে আবার কৃষি শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু উভয় ক্ষেত্র থেকেই যে রোজগার হয়, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অতএব তাদের গন্তব্য হয়ে ওঠে কেরলের মতো কোনো ভিন রাজ্য, যেখানে তারা কলকারখানা, নির্মাণ সাইটে শ্রমিকের কাজ করেন। তাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় না বটে, তবুও স্কুলে যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার গণ্ডি ওই স্কুলের সীমানাতেই থেমে যায়।

সুন্দরবনের বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের জন্য এই গ্রাম ছাড়ার প্রবণতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের কিছু করার নেই। মূল সমস্যা হল, গ্রামে কাজের সুযোগ নেই। কিন্তু কেন?

সুন্দরবনে কর্মসংস্থানের মূল সমস্যা হল এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখনও সামান্য কোনো সার্টিফিকেট বা অন্য কোনো সরকারি কাজের জন্য শহরে ছুটতে হয়। বেসরকারি ক্ষেত্রেও গ্রামে কাজের সুযোগ তেমন নেই। সব কিছুই কলকাতা বা শহর কেন্দ্রীক।

স্থানীয় বাজারে কৃষকরা তাদের ফসলের উপযুক্ত দাম পান না। একটু বেশি লাভের আশায় তাদের বাড়ি থেকে দূরে কোনো বাজারে ছুটতে হয়। তাতে পরিবহণ খরচ সহ অন্যান্য কারণে ফসল বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা যথেষ্ট নয়।

পর্যটনের উপর নির্ভর করে সিকিম, গোয়ার মতো রাজ্যগুলি টিকে আছে। সুন্দরবনে পর্যটনের সমস্ত উপাদান মজুত আছে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নতির জেরে এখানে বিদেশী পর্যটক বা ভিন রাজ্যের পর্যটকের সংখ্যা কম। সাগরদ্বীপে যেতে হলে ভেসেলে উঠতেই হবে। কিন্তু সেতুর মাধ্যমে সড়ক পথে সাগরদ্বীপকে জুড়লে রাতারাতি সুন্দরবনের এই অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা যে বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পর্যটনের উন্নতি হলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। হোটেল, হোমস্টে, রেস্তোরাঁ গড়ে উঠবে।

সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি এখনও শহরের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। যতদিন এটার সমাধান হবে না, ততদিন গ্রামে কাজের সুযোগ অপর্যাপ্ত থাকবে। আর গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে সুন্দরবনের মানুষকে শহরে ছুটতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মধু এনেও উপযুক্ত দাম পান না সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারীরা

আলামিন ফকির। বয়স বছর কুড়ি। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দা। সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করার জন্য পাস জোগাড় করতে হয়। সেই জন্য স্থানীয় এক...

এক ওভারে পাঁচ ছক্কা: আইপিএল ২০২০-তে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন রাহুল তেওয়াটিয়া

রবিবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একটি ম্যাচে শার্জায় মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস এবং কিংস ইলেভন পাঞ্জাব। এই ম্যাচে ব্যাটিং দক্ষতার মাধ্যমে চাঞ্চল্য...

করোনা আক্রান্ত পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা, আরোগ্য কামনায় পূজার আয়োজন করল তৃণমূল

বিশ্বজিৎ মান্না পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস।...

আইপিএল ২০২০: সম্পূর্ণ সূচি, তারিখ, ভেনু

বহু প্রতিক্ষিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারে ভারতের বদলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএল। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে...

Recent Comments

error: Content is protected !!