বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০
Home village গ্রামে থাকলে খাব কি?

গ্রামে থাকলে খাব কি?

১৪৫ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

গ্রামে থেকে কি করব?
কেন চাষবাস?
ধূস! এইটুকু জমিতে চাষ করে কি আর সংসার চলে!
কথা হচ্ছিল তপনের সঙ্গে। বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমার পাথরপ্রতিমায়। কিছু পৈতৃক জমি আছে। কিন্তু তা থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই পরিবার ছেড়ে সুদূর কেরালায় গিয়েছে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে। বছরে দু’বার বাড়িতে ফেরে। দূর্গা পুজো আর বর্ষার সময়।
শুধু পাথরপ্রতিমা নয়, সমগ্র সুন্দরবনেই দেখা যাচ্ছে এই ছবি। রীতিমতো শিক্ষিতরাও কাজ না পেয়ে কেরালা, গুজরাটের মতো রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে রাজমিস্ত্রি কিংবা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে।
এমনিতেই দিনকে দিন কৃষি সরঞ্জামের দাম বাড়ছে। সেই তুলনায় কৃষকরা ফসলের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না। তাই জমি থাকলেও, চাষ করে অনেকেই লাভ করা তো দূরের কথা, ঠিকমতো সংসার চালাতে পারছেন না। আয়লার পর কেটে গিয়েছে এক দশক। ধান জমিতে নোনা জলের সেই আক্রমণের পর এখনও সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক হয়নি ফলন। এমনটাই দাবি করছেন অনেক কৃষক। তারা বলছেন, মাটি থেকে নোনা জলের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে দূর হয়নি। তাই প্রত্যাশামতো ফলন হচ্ছে না। তার উপর রয়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনা। কোনো বছর অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, তো কোনো বছর অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠের ফসল মাঠেই শহীদ হয়। বাড়িতে নিয়ে আসা সম্ভব হয় না।
কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের তরফে কৃষকদের কল্যাণে একাধিক প্রকল্প রয়েছে। তার কতটুকু ফল তারা পেয়েছেন? কৃষকদের স্পষ্ট জবাব, প্রকল্প রয়েছে কাগজে-কলমে। বাস্তবে তার ছিটেফোঁটা প্রমাণ মেলে।
সমগ্র সুন্দরবনে এখন অসংখ্য স্কুল, কলেজ তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর অনেকেই মেধা তালিকায় স্থান পাচ্ছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। স্কুল-কলেজ থেকে বেরোনোর পর তাদের অনেকেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে কাজের সন্ধানে। তারা বলে, গ্রামে কাজ নেই, শহরে কাজ নেই, কলকাতায় কাজ নেই, পশ্চিমবঙ্গে কাজ নেই। অতএব, মোটামুটি মাধ্যমিক পাস করার পরই সুন্দরবন অঞ্চলের অনেক কিশোর, যুবকের ঠাঁই হয় কেরালার মতো দক্ষিণ ভারতের কোনো এক রাজ্যের কনস্ট্রাকশান সাইটে। হাড়ভাঙা খাটুনি। কিন্তু মজুরি এরাজ্যের তুলনায় নাকি প্রায় দ্বিগুণ। সেই লোভে, সুন্দরবনের শয়ে শয়ে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধের স্থান কেরালা।
একটা সময় ছিলো যখন বাঘের আক্রমণে সুন্দরবনের অনেক গ্রাম পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ত। জঙ্গলে কাঠ কাঠতে গিয়ে বাঘের থাবায় তাদের প্রাণ যেত। এখন সময় পাল্টেছে, বাঘের আক্রমণ আগের মতো হয় না, কারণ মানুষের আক্রমণেই বাঘ কোণঠাসা। অস্তিত্ব সংকটে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু পুরুষদের সেই গ্রাম ছাড়ার রেওয়াজ আজও চলছে। রেওয়াজ বললে মনে হয় ভুল হবে। আসলে তারা বাধ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

লকডাউনে দেশবিদেশের শিল্পীদের সঙ্গে আড্ডায় দীপায়ন ঘোষ

২০২০ সালের প্রথম থেকে একের পর এক দুর্যোগ, মহামারি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ও বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমানায় উত্তাপ, সব মিলে চলছে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার...

পাখিরালায় অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রদ্যুৎ বাছাড় অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। রবিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার পাখিরালা গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর,...

কলকাতায় মদের হোম ডেলিভারি শুরু করল জোম্যাটো

বিশ্বজিৎ মান্না বর্তমান প্রজন্মের অনেকে প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেননি। যে কয়েকজন প্রবীণ সেই সময়ের চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন,...

সৌম্যর সুইসাইড নোট: হোঁশিয়ার রেহনা নগর মে চোর আওয়েগা

বিশ্বজিৎ মান্না গড়িয়ায় থার্টিন্থ ফ্লোরের বারান্দাটা কি এখন আমায় চিনতে পারবে! অনেক দিন দেখিনি। যেমন দেখিনি টালিগঞ্জে আমার প্রিয়...

Recent Comments

error: Content is protected !!