বুধবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২১
Home District ঝড়ে উড়ে গিয়েছে টেন্ট ও কটেজ, সুন্দরবনে ভরা পর্যটন মরসুমে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

ঝড়ে উড়ে গিয়েছে টেন্ট ও কটেজ, সুন্দরবনে ভরা পর্যটন মরসুমে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

২২৭ Views

ভরা পর্যটন মরসুমে বুলবুল এসে সব শেষ করে দিয়েছে। তাই কৃষকদের মতো এই প্রান্তিক এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। সুন্দরবনে সারা বছর সেভাবে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন না। মূলত দূর্গা পুজোর পর থেকেই আসতে আসতে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পায়। শীতকালে মূলত সুন্দরবনে ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। আর এবার শীতের শুরুতেই সাইক্লোন বুলবুল যা লণ্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে, তাতে কবে পর্যটনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারছেন না পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

বুলবুলের কারণে সুন্দরবনে পর্যটনের পরিকাঠামোগত যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, শীতকালের দিকে তাকিয়ে তারা সারা বছর বসে থাকেন। কিন্তু এবার বুলবুলের তাণ্ডবের পর পর্যটকের সংখ্যা সুন্দরবনে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি হোটেলেরও ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ রোজগার কমছে কিন্তু খরচ বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন বুঝতে পারছেন না।

সুন্দরবনের দয়াপুর দ্বীপে রয়েছে বিলাসবহুল সুন্দরবন টাইগার ক্যাম্প। বুলবুলে এই ইকো ট্যুরিজম ক্যাম্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবনের একটি বেসরকারি হোটেলের এক আধিকারিক বলেন, বুলবুলে আমাদের রিসর্টগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমাদের রিসর্টগুলি কংক্রিটের নয়। স্থানীয় বিভিন্ন উপাদান দিয়ে এগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরিকাঠামো আগের মতো অবস্থায় আনার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমাদের অধিকাংশ কটেজ এবং টেন্ট ঝড়ে উড়ে গিয়েছে। কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দয়াপুরে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে জলোচ্ছ্বাসে নদী বাঁধ ভেঙে হোটেলে জল ঢুকে গিয়েছে। আমাদের শাকসব্জি এবং ফলের জৈব খামার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে আমরা এই গোটা পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে পারব কি না তা নিয়ে নিশ্চিত নই। আমরা ইতিমধ্যে বুকিং বাতিল করেছি। পর্যটকদের টাকা ফেরত দিয়েছি।

বালি দ্বীপে অবস্থিত হেল্প ট্যুরিজমের সুন্দরবন জঙ্গল ক্যাম্পও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হেল্প ট্যুরিজমের তরফে রাজ বসু বলেন, আমরা প্রচুর চারাগাছ লাগিয়েছিলাম। সেগুলি আজ বড় বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। এই গাছগুলোর জন্য আমরা কিছুটা হলেও বেঁচে গিয়েছি। আয়লার সময় বালিতে নদী  বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু এবার তেমনটা হয়নি। ৭২ ঘন্টার মধ্যে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।

বুলবুলের তাণ্ডবে মৌসুনী দ্বীপের রয়্যাল হাট, টেন্ট এবং গেস্ট হাউজের অবস্থা শোচনীয়। এটিও একটি ইকো ট্যুরিজম ব্যবসা। সংস্থার তরফে সপ্তর্ষি মুখার্জী বলেন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি একটি পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু বুলবুল আসার পর থেকে আমরা আর সেখানে পর্যটকদের নিয়ে যেতে পারছি না। আমাদের পুননির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরে অনিশ্চিত শাকিব আল হাসান

ব্যক্তিগত কারণে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আসন্ন সিরিজে হয়তো খেলতে পারবেন না স্টার অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান। বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রতি...

সুন্দরবনে ৪২৮ প্রজাতির পাখি রয়েছে

শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আর কুমীর নয়। সুন্দরবনে অনেক প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। এদের মধ্যে অন্যতম হল পাখি। সুন্দরবনে মোট ৪২৮ প্রজাতির...

সিকিমের নাকুলা পাস সীমান্তে ভারত-চিন সেনার হাতাহাতি

লাদাখ সেক্টর ভারত-চিন সেনার মধ্যে বিগত কয়েকদিন ধরে একটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এবার সিকিমের কাছে চিন সীমান্তে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল...

ফ্রায়েড চিকেন আর পিৎজার যুগেও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি হরিদাস মোদক

বিশ্বজিৎ মান্না আজ যা আছে, কাল হয়তো থাকবে না! বা বদলে যাবে। এটাই নিয়ম। ঠিক যেমন আমাদের প্রিয় শহর...

Recent Comments

error: Content is protected !!