সোমবার, মে ১৭, ২০২১
Home District আম্ফান, করোনার জোড়া থাবায় জর্জরিত সুন্দরবনের অর্থনীতি পর্যটনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে...

আম্ফান, করোনার জোড়া থাবায় জর্জরিত সুন্দরবনের অর্থনীতি পর্যটনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে

৪৬২ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

২০২০ সাল বোধহয় এই প্রজন্মের দেখা সবচেয়ে খারাপ বছর। কী ঘটেনি এই বছরে। প্রায় গোটা একটা বছর শেষ হতে চলল, অথচ চারিদিকে শুধু খারাপ খবর। বিশেষত সুন্দরবনবাসীদের কাছে এই বছরটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এলাকায় থাবা বসিয়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। উড়ে গিয়েছে ঘর-বাড়ি। জীবন, জীবিকা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের অনেক মানুষ। সেই বাধা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ফের আর এক ধাক্কায় বেশামাল হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। অবশ্য শুধু সুন্দরবন নয়, এই সমস্যায় ভুগছে গোটা পৃথিবী। সেই সমস্যার নাম হল কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এই মহামারিতে সুন্দরবনের অবস্থা দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় একটু বেশি শোচনীয় বলা যায়।

ভারতের অন্যতম দরিদ্র এলাকা সুন্দরবন। কৃষিকাজ এবং মৎসচাষ হল সুন্দরবনের মানুষের মূল পেশা। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে এই উভয় ক্ষেত্র থেকে রোজগারের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। সুন্দরবনে রোজগারের আর একটি অন্যতম ক্ষেত্র হল পর্যটন। এমনিতেই সুন্দরবনে পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। মূলত শরতের শুরু থেকে গ্রীষ্মের আগে পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত দেখা যায়। তবে এবারের করোনা মহামারির জেরে পর্যটন ক্ষেত্রে ছন্দপতন হয়েছে। পুজো পেরিয়ে নভেম্বর পড়তে চললেও এখনও পর্যন্ত সেভাবে পর্যটকদের দেখা যাচ্ছে না সুন্দরবনে। এদিকে করোনার জেরে সুন্দরবনের শ্রমিক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরতরাও ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে পারছেন না। সব মিলিয়ে একটা দম বন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় আসন্ন শীতের মরসুমকে পাখির চোখ করে দু পয়সা রোজগারের আশায় বুক বাঁধছেন সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। করোনার জেরে দীর্ঘ লকডাউনের পর এরমধ্যেই সুন্দরবনের পর্যটনস্থলগুলি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতে গোণা কিছু পর্যটক যেতেও শুরু করেছেন। হোটেল ব্যবসায়ীদের একাংশের আশা, আসন্ন শীতে পর্যটকরা সুন্দরবনে পা রাখতে পারেন। এবারে যেহেতু করোনা মহামারি রয়েছে, তাই করোনা বিধি সহ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ মান্য করে তবেই সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে। সরকারের তরফ থেকে এর মধ্যেই নানা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। হাত ধোয়া, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজারের ব্যবহার সম্পর্কে সর্বদা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু প্রশাসন নয়, সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আর এমনটা বাস্তবে হলে, সুন্দরবনের অর্থনীতি অনেকটাই চাঙ্গা হতে পারবে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অনেকের কর্মসংস্থান হতে পারে। করোনার জেরে এক ধাক্কায় কাজ হারানো বহু মানুষের হাতে কিছু নগদ টাকা আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ফের মৃত্যু

শাহীন বিল্লা, সাতক্ষীরাসুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে রেজাউল ইসলাম নামে এক মৌয়াল নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ মে) বিকেলে বাংলাদেশের পশ্চিম...

দৈনিক সুন্দরবনের সাংবাদিককে মারধর

দৈনিক সুন্দরবন ওয়েবসাইটের এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠল কুলতলিতে। কোভিড বিধি না মেনে শুক্রবার কুলতলীর রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে জেটিঘাটে অনেকে ভিড়...

বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে: মোদিকে চিঠি বিরোধীদের

ভারতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। হাসপাতালো রুগীর জায়গা নেই। অক্সিজেনের অভাব। ভ্যাকসিনের অভাব। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।...

অতিমারির অন্ধকারে ঈদে চাঁদ যেন আশার আলো

সীতাংশু ভৌমিক, ফরিদপুর (বাংলাদেশ) প্রতিবছর ঈদ আসে, পরিযায়ী শ্রমিক-কর্মজীবী মানুষেরা স্বজনদের কাছে ফিরে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকেই...

Recent Comments

error: Content is protected !!