বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
Home District আম্ফান, করোনার জোড়া থাবায় জর্জরিত সুন্দরবনের অর্থনীতি পর্যটনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে...

আম্ফান, করোনার জোড়া থাবায় জর্জরিত সুন্দরবনের অর্থনীতি পর্যটনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে

৩৬৬ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

২০২০ সাল বোধহয় এই প্রজন্মের দেখা সবচেয়ে খারাপ বছর। কী ঘটেনি এই বছরে। প্রায় গোটা একটা বছর শেষ হতে চলল, অথচ চারিদিকে শুধু খারাপ খবর। বিশেষত সুন্দরবনবাসীদের কাছে এই বছরটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এলাকায় থাবা বসিয়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। উড়ে গিয়েছে ঘর-বাড়ি। জীবন, জীবিকা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের অনেক মানুষ। সেই বাধা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ফের আর এক ধাক্কায় বেশামাল হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। অবশ্য শুধু সুন্দরবন নয়, এই সমস্যায় ভুগছে গোটা পৃথিবী। সেই সমস্যার নাম হল কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এই মহামারিতে সুন্দরবনের অবস্থা দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় একটু বেশি শোচনীয় বলা যায়।

ভারতের অন্যতম দরিদ্র এলাকা সুন্দরবন। কৃষিকাজ এবং মৎসচাষ হল সুন্দরবনের মানুষের মূল পেশা। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে এই উভয় ক্ষেত্র থেকে রোজগারের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। সুন্দরবনে রোজগারের আর একটি অন্যতম ক্ষেত্র হল পর্যটন। এমনিতেই সুন্দরবনে পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। মূলত শরতের শুরু থেকে গ্রীষ্মের আগে পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত দেখা যায়। তবে এবারের করোনা মহামারির জেরে পর্যটন ক্ষেত্রে ছন্দপতন হয়েছে। পুজো পেরিয়ে নভেম্বর পড়তে চললেও এখনও পর্যন্ত সেভাবে পর্যটকদের দেখা যাচ্ছে না সুন্দরবনে। এদিকে করোনার জেরে সুন্দরবনের শ্রমিক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরতরাও ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে পারছেন না। সব মিলিয়ে একটা দম বন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় আসন্ন শীতের মরসুমকে পাখির চোখ করে দু পয়সা রোজগারের আশায় বুক বাঁধছেন সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। করোনার জেরে দীর্ঘ লকডাউনের পর এরমধ্যেই সুন্দরবনের পর্যটনস্থলগুলি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতে গোণা কিছু পর্যটক যেতেও শুরু করেছেন। হোটেল ব্যবসায়ীদের একাংশের আশা, আসন্ন শীতে পর্যটকরা সুন্দরবনে পা রাখতে পারেন। এবারে যেহেতু করোনা মহামারি রয়েছে, তাই করোনা বিধি সহ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ মান্য করে তবেই সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে। সরকারের তরফ থেকে এর মধ্যেই নানা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। হাত ধোয়া, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজারের ব্যবহার সম্পর্কে সর্বদা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু প্রশাসন নয়, সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আর এমনটা বাস্তবে হলে, সুন্দরবনের অর্থনীতি অনেকটাই চাঙ্গা হতে পারবে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অনেকের কর্মসংস্থান হতে পারে। করোনার জেরে এক ধাক্কায় কাজ হারানো বহু মানুষের হাতে কিছু নগদ টাকা আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ফের অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি, কোকেন কাণ্ডে এবার গ্রেফতার রাকেশ সিং

মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হল বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমানের গোলসি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের...

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের থাবায় দুই মৎসজীবী

সুন্দরবনে ফের রয়্যাল বেঙ্গলের আক্রমণ। গত বুধবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে এক মৎসজীবী গুরুতর আহত হয়েছে। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা...

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরানো হল কিরণ বেদিকে

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কিরণ বেদিকে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফ থেকে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।...

রাধুবাবুর মাটন বা চিকেন কোর্মা ট্রাই করতেই হবে!

গৌরব মুখার্জীআমাদের কলকাতা, যে কলকাতা তিনটে গ্রাম নিয়ে তৈরী হয়েছিল আজ সেই শহর আকারে আয়তনে রোজ একটু একটু করে বড় হচ্ছে তো...

Recent Comments

error: Content is protected !!