বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
Home Uncategorized উষ্ণায়নের ফলে ডুববে মুম্বই, আন্তর্জাতিক গবেষণায় ব্রাত্য সুন্দরবন

উষ্ণায়নের ফলে ডুববে মুম্বই, আন্তর্জাতিক গবেষণায় ব্রাত্য সুন্দরবন

২১৪ Views

একটি নতুন গবেষণার ফলাফল নিয়ে গতকাল থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া মেতে উঠেছে। বিষয়টা কি ? একটি নয়া গবেষণায় বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের প্রভাব সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে আগের অনুমানের থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জীবন প্রভাবিত হবে। এবং সেটা ঘটবে ২০৫০ সালের মধ্যেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত নানা শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যেমন ভিয়েতনামের দক্ষিণাংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে। দেশের অর্থনীতির কেন্দ্র হো চি মিন সিটির অনেকাংশ জলমগ্ন হতে পারে। জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত নিউ জার্সি ভিত্তিক একটি সায়েন্স অর্গানাইজেশন ক্লাইমেট সেন্ট্রালের রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে তাইল্যান্ডের ১০ শতাংশ মানুষ সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে বাসস্থান হারাতে পারেন। প্রধান শহর ব্যাংককের অস্তিত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এশিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর শাংহাইয়ের বিপুল অংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই সম্পূর্ণরূপে জলের তলায় চলে যেতে পারে। বিশেষত মুম্বই শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে যেসব এলাকার মানুষ বাসস্থান হারাতে পারেন, এখন থেকেই তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হোক। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা দরকার।

বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং এর ফলস্বরূপ বরফ গলে জলবৃদ্ধি। সমুদ্রের জলস্তর যে বাড়ছে তা এখন আর কোনো নতুন তথ্য নয়। এই বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বহু গবেষণা হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হল, এই সমস্ত রিপোর্ট, গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বড় শহর। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে শহরের আগে যে অঞ্চলগুলির ওপর প্রভাব পড়বে তা হল মৌসুনি, সাগরদ্বীপ, পাথরপ্রতিমার মতো সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা। অথচ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই নিয়ে বিশেষ শব্দ খরচ করা হয় না। সাম্প্রতিক রিপোর্টটি তার আদর্শ প্রমাণ। মুম্বইয়ের অনেকাংশ জলের তলায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা যতটা চিন্তার বিষয়, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলির তলিয়ে যাওয়া তার থেকেও বেশি চিন্তার বিষয়। কারণ এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলির শহরের বাসিন্দাদের তুলনায় আর্থিক, সামাজিক দিক থেকে অনেক বেশি পিছিয়ে। কাকদ্বীপের কাছে ঘোড়ামারা দ্বীপের বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরে একটু একটু করে তাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, চাষের জমি – সব কিছুই হারিয়েছেন ক্রমবর্ধমান জলস্তরের কোপে। চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু সরকারি মহল থেকে সেরকম উদবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় না। বিশেষত সুন্দরবনের বাসিন্দাদের ক্লাইমেট রিফিউজি হিসেবে ঘোষণা করার ব্যাপারে আমাদের দেশে স্পষ্ট কোনো আইনী সংস্থানও নেই। বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ফের অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি, কোকেন কাণ্ডে এবার গ্রেফতার রাকেশ সিং

মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হল বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমানের গোলসি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের...

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের থাবায় দুই মৎসজীবী

সুন্দরবনে ফের রয়্যাল বেঙ্গলের আক্রমণ। গত বুধবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে এক মৎসজীবী গুরুতর আহত হয়েছে। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা...

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরানো হল কিরণ বেদিকে

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কিরণ বেদিকে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফ থেকে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।...

রাধুবাবুর মাটন বা চিকেন কোর্মা ট্রাই করতেই হবে!

গৌরব মুখার্জীআমাদের কলকাতা, যে কলকাতা তিনটে গ্রাম নিয়ে তৈরী হয়েছিল আজ সেই শহর আকারে আয়তনে রোজ একটু একটু করে বড় হচ্ছে তো...

Recent Comments

error: Content is protected !!