শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০
Home Uncategorized উষ্ণায়নের ফলে ডুববে মুম্বই, আন্তর্জাতিক গবেষণায় ব্রাত্য সুন্দরবন

উষ্ণায়নের ফলে ডুববে মুম্বই, আন্তর্জাতিক গবেষণায় ব্রাত্য সুন্দরবন

১৮৫ Views

একটি নতুন গবেষণার ফলাফল নিয়ে গতকাল থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া মেতে উঠেছে। বিষয়টা কি ? একটি নয়া গবেষণায় বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের প্রভাব সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে আগের অনুমানের থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জীবন প্রভাবিত হবে। এবং সেটা ঘটবে ২০৫০ সালের মধ্যেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত নানা শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যেমন ভিয়েতনামের দক্ষিণাংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে। দেশের অর্থনীতির কেন্দ্র হো চি মিন সিটির অনেকাংশ জলমগ্ন হতে পারে। জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত নিউ জার্সি ভিত্তিক একটি সায়েন্স অর্গানাইজেশন ক্লাইমেট সেন্ট্রালের রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে তাইল্যান্ডের ১০ শতাংশ মানুষ সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে বাসস্থান হারাতে পারেন। প্রধান শহর ব্যাংককের অস্তিত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এশিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর শাংহাইয়ের বিপুল অংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই সম্পূর্ণরূপে জলের তলায় চলে যেতে পারে। বিশেষত মুম্বই শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে যেসব এলাকার মানুষ বাসস্থান হারাতে পারেন, এখন থেকেই তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হোক। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা দরকার।

বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং এর ফলস্বরূপ বরফ গলে জলবৃদ্ধি। সমুদ্রের জলস্তর যে বাড়ছে তা এখন আর কোনো নতুন তথ্য নয়। এই বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বহু গবেষণা হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হল, এই সমস্ত রিপোর্ট, গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বড় শহর। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে শহরের আগে যে অঞ্চলগুলির ওপর প্রভাব পড়বে তা হল মৌসুনি, সাগরদ্বীপ, পাথরপ্রতিমার মতো সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা। অথচ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই নিয়ে বিশেষ শব্দ খরচ করা হয় না। সাম্প্রতিক রিপোর্টটি তার আদর্শ প্রমাণ। মুম্বইয়ের অনেকাংশ জলের তলায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা যতটা চিন্তার বিষয়, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলির তলিয়ে যাওয়া তার থেকেও বেশি চিন্তার বিষয়। কারণ এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলির শহরের বাসিন্দাদের তুলনায় আর্থিক, সামাজিক দিক থেকে অনেক বেশি পিছিয়ে। কাকদ্বীপের কাছে ঘোড়ামারা দ্বীপের বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরে একটু একটু করে তাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, চাষের জমি – সব কিছুই হারিয়েছেন ক্রমবর্ধমান জলস্তরের কোপে। চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু সরকারি মহল থেকে সেরকম উদবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় না। বিশেষত সুন্দরবনের বাসিন্দাদের ক্লাইমেট রিফিউজি হিসেবে ঘোষণা করার ব্যাপারে আমাদের দেশে স্পষ্ট কোনো আইনী সংস্থানও নেই। বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

মটন বিরিয়ানি থেকে লুচি-ছোলার ডাল, কলকাতার খাবারে মুগ্ধ হয়েছিলেন দিয়েগো মারাদোনা!

শুধু করোনার তাণ্ডবই নয়, নানা কারণে ২০২০ একটি ‘আনলাকি’ বছর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। এমনটাই দাবি অনেকের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে...

তিলোত্তমার জীবনরেখা

মিতুন মণ্ডল দৃশ্য– ১ শহরে সবে শীতের ছোঁয়া। সাত সকালের চাঁদনির ফুটপাত। ধোঁয়া ওঠা চায়ের ভাড়ে...

কনকনে ঠান্ডায় জল কামানের সামনে দাঁড়িয়ে কৃষি আইন বাতিলের দাবি কৃষকদের

উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এর মধ্যেই হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। সেসব উপেক্ষা করে গত রাত থেকেই পাঞ্জাবে হরিয়ানা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জড়ো...

অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত ১ম ওডিআই: ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

এবার অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। নয় মাসের দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নামছে টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার, ২৭...

Recent Comments

error: Content is protected !!