শুক্রবার, মার্চ ৫, ২০২১
Home village স্বামীর প্রাণ গিয়েছে রয়্যাল বেঙ্গলের থাবায়, তবুও জঙ্গলে যাওয়া ছাড়া পারুলের কোনো...

স্বামীর প্রাণ গিয়েছে রয়্যাল বেঙ্গলের থাবায়, তবুও জঙ্গলে যাওয়া ছাড়া পারুলের কোনো উপায় নেই

১৭৭ Views

এক শীতের দুপুর। ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকায় তখন মাছ ধরার জাল টানছেন পারুল হালদার। তার পিছনেই রয়েছে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল। প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত সুন্দরবনের অধিকাংশটাই রয়েছে বাংলাদেশে। বাকিটা পশ্চিমবঙ্গে।

বছর চারেক আগে পারুলের জীবনে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। জঙ্গলের ভিতরে খাঁড়িতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি পারুলের স্বামী। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের থাবায় তার প্রাণ যায়। তার সঙ্গে থাকা দুই সঙ্গী দেখেন, তার দেহ টেনে নিয়ে যাচ্ছে বিশাল আকৃতির এক রয়্যাল বেঙ্গল। সুন্দরবনে প্রতিবছর বাঘের আক্রমণে এরকম অনেক মানুষের মৃত্যু হয়।

চার সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অথৈ জলে পড়েন পারুল। যে বিপদে স্বামীর প্রাণ গিয়েছে, এখন সেই পেশাতেই, অর্থাৎ জঙ্গলের খাঁড়িতে মাছ ধরেই তিনি সংসার চালান। আর কোনো উপায় নেই। শুধু পারুলই নন, ভারত এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা সুন্দরবনে এরকম অনেক পারুলের কাহিনী রয়েছে। বিপদ আছে জেনেও তাদের জঙ্গলে যেতে হয় পেটের টানে।

সুন্দরবনের অর্থনীতির চিত্রটা বিগত কয়েক দশকে অনেক বদলে গিয়েছে। কৃষি থেকে আগের মতো রোজগার হয় না। ফলে মানুষ কৃষির বদলে বিকল্প পেশার সন্ধান করছেন। সুন্দরবন থেকে ভিনরাজ্যে বা দেশের বাইরে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে মূলত পুরুষরাই সেটা করেন। পারুলের মতো অনেককেই থাকতে হয় নদী, বদ্বীপের দেশ সুন্দরবনে। রুজি-রুটির জন্য তাদের কাছে ভরসা জঙ্গল আর নদী। এতেই রয়েছে তাদের বেঁচে থাকার রসদ।

মাঝ ধরে ফেরার পর ভারতীয় সুন্দরবনের অংশ সাতজেলিয়া দ্বীপের বাসিন্দা, ৩৯ বছরের পারুল তার কুঁড়ে ঘরের সামনে বসে বলছিলেন, আমি যখন গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করি, তখন মনে হয় প্রাণটা আমার হাতে নিয়েই জঙ্গলে যাচ্ছি।

তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বছরের অধিকাংশ সময় নদী থেকে মাছ ধরেন। কাঁকড়া ধরার জন্য মাসে দুবার করে তিনি গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেন। সেখানে পৌঁছানোর জন্য জরাজীর্ণ ডিঙি নৌকাতে ছয় ঘন্টা ধরে দাঁড় টানতে হয়। সাথে থাকেন তার মা। এতকিছু করে মাসে তার রোজগার হয় মাত্র ২,০০০ টাকা। মাছ এবং কাঁকড়া ধরার এই টাকা দিয়েই তার সংসার চলে, ছোট মেয়ে পাপড়িকে স্কুলে পাঠান। পারুল বলেন, জঙ্গলে না গেলে পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে পারব না।

সুন্দরবনের অধিকাংশ লোজকনের মতো পারুল ভিনরাজ্যে কাজ করতে সুন্দরবন ছাড়তে পারেন না। কারণ তার ১১ বছরের মেয়ে পাপড়ি। সে স্কুলে যায়। পারুল যদি বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও কাজের সন্ধানে চলে যান, তাহলে তার দেখভাল করার মতো কেউ থাকবে না। পারুল চান তার চেয়ে যেন তার মেয়ের জীবনটা আরও ভালো হয়। তাই যেকোনো মূল্যেই মেয়ের পড়াশুনা তিনি চালিয়ে যেতে চান।

তথ্যঋণ: দ্য অয়্যার এবং সংবাদসংস্থা রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ফের অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি, কোকেন কাণ্ডে এবার গ্রেফতার রাকেশ সিং

মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হল বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমানের গোলসি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের...

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের থাবায় দুই মৎসজীবী

সুন্দরবনে ফের রয়্যাল বেঙ্গলের আক্রমণ। গত বুধবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে এক মৎসজীবী গুরুতর আহত হয়েছে। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা...

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরানো হল কিরণ বেদিকে

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কিরণ বেদিকে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফ থেকে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।...

রাধুবাবুর মাটন বা চিকেন কোর্মা ট্রাই করতেই হবে!

গৌরব মুখার্জীআমাদের কলকাতা, যে কলকাতা তিনটে গ্রাম নিয়ে তৈরী হয়েছিল আজ সেই শহর আকারে আয়তনে রোজ একটু একটু করে বড় হচ্ছে তো...

Recent Comments

error: Content is protected !!