বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৯, ২০২১
Home District ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

৩১৯ Views

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরী
জমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবেনি। সদ্য ‘ইয়াস’ বিধ্বস্ত সুন্দরবনের ঘোড়ামারা এলাকার চিত্রটা বাস্তবের থেকেও রূঢ়। ২০২০ শুরুর প্রথম দিকে লকডাউন পরিস্থিতিতে বিধ্বংসী আমফানের তাণ্ডব দেখে মানুষ কপাল চাপড়েছিল। ভেবেছিল এর মতো ভয়ঙ্কর আর কিছু হতে পারে না। ঠিক এক বছর পরে দুর্দশার বর্ষপূর্তির অভিশাপ রূপে প্রকৃতি ফিরিয়ে দিল ‘ইয়াস’। জীবন কেড়ে নিয়ে বুঝিয়ে দিল, জলের আর এক নাম ‘জীবন’। ঘোড়ামারার বাসিন্দারা বুঝতে পারলেন, আমফান এর তুলনায় অনেক অংশে কম ভয়াবহ ছিল। তাদের তো তখনও ঘর-বাড়ির অস্তিত্ব ছিল, এবারে ভিটেমাটি, জমি সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ‘সিঙ্কিং আইল্যান্ড’ বা ‘ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপের’ নামকরণের স্বার্থকতাকে আরও কিছুটা এগিয়ে দিল ইয়াস।

প্রায় ধ্বংসস্তূপের আকার নিয়েছে। ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

কলকাতা থেকে ৯২ কিমি দক্ষিণে সুন্দরবনের কাকদ্বীপের কাছে অবস্থিত এই ঘোড়ামারা দ্বীপ। আয়তন মাত্র ৫ বর্গ কিমি। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর বিগত কয়েক দশকে সুন্দরবনের বেশ কিছু বদ্বীপ নিশ্চিহ্ন হয়েছে। বাকি দ্বীপগুলির অবস্থাও খুব সঙ্গীন। সম্প্রতি ইয়াসের তাণ্ডবে ঘোড়ামারায় ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহটা ঝড়-বৃষ্টিতেই কাটিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলি। কিন্তু সুন্দরবনের অঞ্চলগুলিতে দু-আড়াই দিনের টানা বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যা সব উথাল পাথাল করে দেয়। প্রকৃতি শান্ত হওয়ার পর ঘোড়ামারার মানুষগুলো নিজেদের এলাকার আশপাশ ঘুরে ভিটেমাটি খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু কিছুই খুঁজে পায় না। কোথায় পুকুর, কোথায় বন্যার জলে তৈরি হওয়া ডোবা; কিছুই আলাদা করা যাচ্ছে না। এমন কোনও চিহ্ন নেই যা দেখে নিজের বাসভূমি সনাক্ত করা যায়। জনৈক ভদ্রমহিলা ত্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে আসতে পাশের এলাকার আর এক বাসিন্দাকে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। তিনি বলছেন, ‘চোখের সামনে দেখছি বাড়িগুলো জলের স্রোতে ভেসে চলে যাচ্ছে; আমার সাথে আমার ছেলে আর শাশুড়ি মা। সামনে একটা পেয়ারা গাছ থাকায় এক হাত দিয়ে পেয়ারা গাছের ডাল ধরেছি, আর এক হাতে শাশুড়ি মা, আর কোলে ছেলে।’ বলতে বলতে মহিলার গলা কেঁপে উঠছে, চোখের কোণায় জল যা সঙ্কোচের কারণে মুছে নিতে হচ্ছে।

সব হারানোর মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ঘোড়ামারায় ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

আর এক ভদ্রলোক বলছিলেন, সব জলের তলায় চলে যাওয়ার পর, বাকি থাকা একটা গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে ১৩ জনের রান্না করে একটা বেলা পার করেছেন তিনি। পরের বেলায় কী হবে কেউ জানে না। ডাক্তার নেই, বদ্যি নেই- এরকম একটা এলাকা শুধু দোয়া’তে বাঁচছে। কারও আধার কার্ড, কারও ভোটার কার্ড সব ভেসে চলে গেছে। আমফান চালা উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল, এবারে ইয়াস নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও থেকে জানা যায় ঘোড়ামারার বাসিন্দা মলয় রায়ের কথা। তার মুখে অসহায়তার ছাপ। অনুশোচনায় পাশের এলাকার আত্মীয়দের বাড়ি আশ্রয় নিতে বিবেকে বাধছে তার। জানাচ্ছেন উনি খেটে খাওয়া মানুষ। কোনও সঞ্চয় নেই। পাশের পাড়ায় আত্মীয়দের বাড়ি গিয়ে উঠলেও তারাও কতদিনই বা ওকে রাখতে পারবেন; দু’মাস পর হয়তো উঠে যেতে হবে। কিন্তু তারপরে কিভাবে চলবে! ঘোড়ামারা কি অভিশাপ না প্রশাসনের দীর্ঘদিনের গাফিলতির ফল- এই নিয়ে অনেক মতান্তর রয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ৮ এর দশক থেকে ঘোড়ামারার স্থানীয় সরকার এলাকার বাসিন্দাদের পাশের এলাকা সাগরদ্বীপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে। মিনারুল নামের এক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, এই কয়েক বছরে তিনি কীভাবে এমএলএ-সহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য। বদলে কর্মকর্তারাও ভোটব্যাঙ্কের প্রতিশ্রুতি চেয়েছিলেন। ওই গণমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মিনারুল বলছেন, আজকের দিনে তিন ভাইকে ঐক্যবদ্ধ করানো যতটা দুষ্কর, তিনি সেখানে ৪০ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য রাজি করিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৭-৮ বছর হয়ে গেল একটা পরিবারকেও সরকার পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেয়নি। যদি নূন্যতম ৫ পরিবারকেও এই ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তাহলে সরকারের দিক থেকে একটা সৎ প্রচেষ্টা চলছে সেটা ভেবে আশ্বস্ত থাকা যেত। কিন্তু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই পড়ে নেই।

বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন ঘোড়ামারার অনেক বাসিন্দা। ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী ১০৯৫ পরিবার তখনও ক্ষয়প্রাপ্ত দ্বীপে বসবাস করছে। ঘোড়ামারার প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারকে সাগরদ্বীপ-সহ বাকি কিছু দ্বীপে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে এই ১০৯৫ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সরকার এখনও কেন কিছু করছে না- এই প্রশ্ন মিনারুলেরও। সুন্দরবন থেকে দূরবর্তী এলাকায় পরিকল্পিত পুনর্বাসনের জন্য সংগৃহীত বর্তমান প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত সমস্যাযুক্ত। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর অভাবে নয়, জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম উপাদানগুলির অভাবের কারণে ওই দ্বীপ ছেড়ে অন্যান্য দ্বীপে কিছু পরিবার যেতে এখনও রাজি নন। এছাড়াও রয়েছে, পড়ে থাকা পরিবারগুলির গণ সিদ্ধান্তের মধ্যে অমিল। মিনারুলের বক্তব্য অনুযায়ী, একই গ্রামের, এমনকি একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের আকাঙ্ক্ষা এবং ঐক্যের অভাব রয়েছে, যে কারণে তারা পুনর্বাসনে সহমত প্রকাশ করেননি।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সাইক্লোন- এই জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ ঘোড়ামারা। ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

সাগরদ্বীপের বাসিন্দা মলয় পালের কথায়, প্রশাসন যে চেষ্টা করেনি তা নয়। অনেক পরিবারকেই পুনর্বাসনের জন্য পাশের এলাকায় স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অনেক মানুষকেই এক বিঘা, দুই বিঘা করে জমি কাগজে-কলমে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এরকম অনেক মানুষই রয়েছেন যারা ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য দ্বীপে স্থানান্তরিত হতে চাননি। কেউ কেউ বঙ্কিমনগরে নিজের নতুন বাসস্থান পেয়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন। অন্যদিকে কিছু মানুষ ভিটেমাটির মায়া এখনও ত্যাগ করতে পারেননি। তাই সর্বশান্ত হয়েও তারা আবার সেই ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপেই ফিরে গিয়েছেন। মলয় বাবুর কথায়, এর একটা বড় কারণ হতে পারে ঘোড়ামারার উর্বর জমি। ঘোড়ামারার জমি এতটাই উর্বর যে একটা বীজ মাটিতে পড়লেই সেখান থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। এছাড়াও সেখানে প্রচুর পান বোরোজ রয়েছে। উর্বর মাটিতে পান বোরোজ করার স্বপ্ন এবং পান ব্যবসা করে লাভ দেখার ইচ্ছা সাধারণ মানুষকে জমি আঁকড়ে ধরে রাখতে বাধ্য করেছে।

ইউটিউবের ‘পিপলস আর্কাইভ অফ রুরাল ইন্ডিয়া’ চ্যানেলের একটি ভিডিও থেকে জানা যায়, সাগরদ্বীপ নিবাসী বর্ষীয়ান পূর্ণিমা ভুঁইয়ার কথা। তিনি ১৯৯৩ সালে ঘোড়ামারা ছেড়ে সাগরদ্বীপে এসে থাকা শুরু করেছিলেন। তাঁর কথায়, ঘোড়ামারা বসবাসের পক্ষে খুব ভাল ছিল। সবাই মিলে মিশে থাকত, কারও সাথে কারও কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু অশান্ত প্রকৃতি নিশ্চিন্তে বাস করতে দেয়নি তাঁদের। কেড়ে নিয়েছে ভিটেমাটি। কমপক্ষে ১০-১২ বার বাড়ি বদলাতে হয়েছে। সমুদ্রের জল হাঙরের মতো গোগ্রাসে গিলেছে জমি, আর সমুদ্রতট থেকে একটু একটি করে এগিয়ে আসতে আসতে শেষ পর্যন্ত সাগরদ্বীপে এসে ঠেকেছেন মহিলা।

প্রকৃতির রোষে অসহায় ঘোড়ামারা। ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

কিন্তু এভাবে কতদিন? প্রশ্ন উঠেছে বেড়িবাঁধ না দেওয়া নিয়ে। ঘোড়ামারা তথা সুন্দরবনের যা ভৌগোলিক অবস্থান, তাতে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক লীলাকে আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পাথরের বোল্ডারের বাঁধ যথেষ্ট নয়। তাই মানুষ বরাবরই চেয়ে এসেছে পাকা বেড়িবাঁধ। ত্রাণ হয়তো একটা সাময়িক ব্যবস্থা। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো প্রতিবার দুর্যোগের সময় ত্রাণের ভরসাতে অপেক্ষা করে বসে থাকতে পারে না। আর যেখানে এরকম একটা প্রতিকূল এলাকা, সেখানে প্রশাসন এখনও পাকা বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা করেনি কেন সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একাধিক। এও শোনা গিয়েছে যে জমির মালিকরা বেড়িবাঁধ দেওয়ার নাম করে প্রশাসনের থেকে টাকা নিয়ে বসেছে কিন্তু পুরো টাকা হাতে না আসার অজুহাতে কাজ শুরু করেনি। ফলত এভাবেই কেটে গিয়েছে বছরের পর বছর। ভুক্তভোগী হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত না করলেই নয়। হয়ে যাওয়া ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির পিছনে ঘোড়ামারার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। ঘোড়ামারা সাগরদ্বীপ নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত এবং সাগরদ্বীপে আগে থেকে বহু ঘোড়ামারা নিবাসীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছর ধরে সাগরদ্বীপেও ক্লাইমেট রিফিউজির সংখ্যা এত বেড়েছে যে পুনর্বাসনের জন্য জায়গা ক্রমশ কমে এসেছে। পাশাপাশি সেখানকার জমিও ধীরে ধীরে সমুদ্র বক্ষে তলিয়ে যেতে চলেছে। অর্থাৎ ঘোড়ামারার পুনর্বাসনপ্রাপ্ত বাসিন্দারা সাগরদ্বীপে জায়গা না পেলে তাদের অন্য কোনও দ্বীপে আশ্রয় দিতে হবে। অন্য দ্বীপ মানেই অন্য নির্বাচনী কেন্দ্র। সমস্যার সমাধান হিসাবে কাকদ্বীপ নির্বাচনী কেন্দ্রকে নতুন পুনর্বাসনযোগ্য ভূমি হিসাবে ভাবা হয়েছিল। ফলত তখন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব দেখা যাবে বলে মনে করা হয়েছিল। কাকদ্বীপে এত রিফিউজির হঠাৎ পুনর্বাসন, সাগরদ্বীপ থেকে দাঁড়ানো প্রার্থীকে ভোটে টক্কর দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়েছিল। যদিও ভোটের ফলাফলের পর একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে সংখ্যা গুরু সাধারণ মানুষ শাসক দলের উপরেই আস্থা রেখেছিল।

চারিদিকে শুধু জল। ছবিটি তুলেছেন সুমিত সান্যাল।

সর্বভারতীয় সেই গণমাধ্যম থেকে আরও জানা যায়, ঘোড়ামারার বাসিন্দারা সরকার থেকে খাবার-দাবার, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সাহায্য পেয়ে আসছে এবং তাতে তারা খুশিও। কিন্তু বছর ৩৭–এর মহিলা সুবলা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সাহায্য তারা চান না। বসন্তে বা বর্ষায় যখন জোয়ারে তাদের ঘরবাড়ি ভেসে যায়, তাদের কোথাও যাওয়ার আস্তানা থাকে না। এভাবে কি বাঁচা যায়? ওরা ভর্তুকির খাবার চায় না, ওরা চায় পুনর্বাসন। সেখানে পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়ে বা কাজ করে তারা দুটো পয়সা উপার্জন করে সম্মানের সাথে বাঁচতে চায়। এইটুকুকে কি ন্যায্য বলা যায় না? প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও জানা—কিন্তু কেউ মুখ খুলতে নারাজ।

আমফানে ঝড়ের প্রকোপ ছিল বেশি। মানুষ তাও বেঁচে গিয়েছিল। উড়ে যাওয়া পান একজায়গায় জমা করে তা বাজারে বেচে পয়সা উপার্জন করেছিল চাষিরা। হয়ত তচনচ হয়ে যাওয়া জীবন গুছিয়ে তুলতে একটু সময় লেগেছিল। বাড়ির চালা মেরামতে লেগেছিল একটু বেশি সময়। কিন্তু ইয়াসে গ্রামগুলিতে জল ঢুকে গোড়া থেকে জমি যেভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, এই অবস্থায় মানুষ কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে, কী খাবে, কী উপার্জন করবে তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। অনিশ্চয়তার মাঝে সাগরের বুকে জীবন্ত জীবাশ্ম হয়ে বাঁচছে ঘোড়ামারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

কুমীরের আক্রমণে আহত রাক্ষসখালীর যুবক

কুমীরের আক্রমণে গুরুতর আহত রাক্ষসখালীর এক যুবক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নদীতে মাছ ধরার সময় এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম...

আফগানিস্তানে খতম ২৬২ তালিবান, দেশজুড়ে কার্ফিউ

গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানে মোট ২৬২ জন তালিবান জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই খবর জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, আফগান...

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ডেবিউ করতে পারেন বরুণ চক্রবর্তী

আপাতত ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা সহ টিম ইন্ডিয়ার সিনিয়র খেলোয়াড়রা সেই স্কোয়াডে রয়েছেন। তাই শ্রীলঙ্কা সফরে...

কমছে কোভিড, সোমবার থেকে দিল্লিতে ১০০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে চলবে মেট্রো

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। খুলে যাচ্ছে দোকানপাট, সিনেমা হল। শনিবার দিল্লি সরকারের একটি অর্ডার থেকে জানা গিয়েছে, এবার দেশের রাজধানীতে...

Recent Comments

error: Content is protected !!