বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১
Home country সুন্দরবনে গত ছয় মাসে বাঘের আক্রমণে প্রাণ গিয়েছে ৬ মৎসজীবীর

সুন্দরবনে গত ছয় মাসে বাঘের আক্রমণে প্রাণ গিয়েছে ৬ মৎসজীবীর

২৬৬ Views

বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক সুন্দরবন ডেস্ক

সুন্দরবন নিয়ে কেউ ভাবে না। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, কোনো দলের নেতাকেই ভোটের সময় ছাড়া এলাকায় দেখা যায় না। তাই হাজার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, এখনও গাঢ় অন্ধকারে ডুবে রয়েছে সুন্দরবন।

আমরা বলছি না, এমনই অভিযোগ তুলেছে সুন্দরবনের বাসিন্দারা। এখনও দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র এলাকা হিসেবেই চিহ্নিত হয় সুন্দরবন। কর্মসংস্থানের অভাব এখানকার একটি অন্যতম বড় সমস্যা। আর এর জেরে অনেক সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, পেটের টানে মৎসজীবীদের প্রবেশ করতে হয় গভীর জঙ্গলে। তারা জানেন, সেটা আইন বিরুদ্ধ কাজ। সুন্দরবনের কোর এরিয়াতে বাঘের আক্রমণ বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে, সরকার তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না। কিন্তু সব জেনেও, একপ্রকার নিরুপায় হয়ে তাদের নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণ নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, গত ছয় মাসে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বনদপ্তরের সূত্র মারফত বলা হল, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই মৎসজীবীরা অনুমতি ছাড়াই জঙ্গলের কোর এরিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন। তাতেই ঘটে বিপত্তি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁকড়ার লোভনীয় দাম দেখে মৎসজীবীরা বাধ্য হয়ে কাঁকড়া ধরার জন্য জঙ্গলের কোর এরিয়াতে প্রবেশ করছেন। তারা বলেন, এক কেজি মহিলা কাঁকড়ার দাম ৮০০ টাকা। অন্যদিকে এক কেজি পুরুষ কাঁকড়ার দাম ৬০০ টাকা।

সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের বাসিন্দা মঙ্গল সর্দার বলেন, জঙ্গলে দু সপ্তাহের জন্য কাঁকড়া ধরতে গেলে প্রত্যেক মৎসজীবী প্রায় ৩৫,০০০ টাকা রোজগার করেন। মাছ ধরার থেকে এটি অনেক বেশি লাভজনক। তাই ঝুঁকি সত্ত্বেও গভীর জঙ্গলে গিয়ে মৎসজীবীরা কাঁকড়া ধরেন।

গত ছয় মাসে সুন্দরবন থেকে একাধিকবার বাঘের আক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। এক ঝলকে সেই ঘটনাগুলির উপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকে অক্টোবরের ১৭ তারিখের মধ্যে সুন্দরবনে মোট তিনজন মৎসজীবী বাঘের আক্রমণের মুখে পড়েছেন। ২৩ নভেম্বর অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গত ২১ জানুয়ারি বাঘের আক্রমণের একটি ঘটনা ঘটেছে।

বনদপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, মৎসজীবীদের জঙ্গলের কোর এরিয়ায় প্রবেশ করা বন্ধ করতে সতর্ক এবং জরিমানা বৃদ্ধি করা হলেও এই প্রবণতা হ্রাস পায়নি।

সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর সুধীর চন্দ্র দাস বলেন, জঙ্গলের কোর এরিয়াতে প্রবেশ করা থেকে মৎসজীবীদের শুধু নিষেধ করাই নয়, আমরা তাদের উপর মোটা টাকা জরিমানা চাপিয়েছি। অনুমতি ছাড়া কোর এরিয়াতে প্রবেশ করায় আমরা সাময়িকভাবে তাদের নৌকা আটক করেছি। তবুও অনেকে আইন অমান্য করছেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করছেন।

সুন্দরবনের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বনদপ্তরের পক্ষেও সব সময় জঙ্গলের কোর এরিয়াতে কারা প্রবেশ করছে তার উপর কঠোর নজর রাখা সম্ভব হয় না। নদীপথে ঘেরা সুন্দরবনে যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও একটা জ্বলন্ত সমস্যা।

স্থানীয় পঞ্চায়েত আধিকারিকরা বলেন, একশ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প অধীনে জব কার্ড প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তারাও অধিক লাভের আশায় জঙ্গলের কোর এরিয়ায় ঢুকছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!