রবিবার, জুন ২০, ২০২১
Home District স্যান্টা এল সুন্দরবনে

স্যান্টা এল সুন্দরবনে

৪৮২ Views

গোসাবা থেকে ঘুরে এসে লিখছেন সাগ্নিক চৌধুরী

সারা বছর জুড়ে আপনার ধর্ম আদর্শ বা বিশ্বাস যাই থাকুক না কেন, বছরের শেষাংশে এসে, মানে এই ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারির মধ্যে আপনার মধ্যে একটা খ্রিস্টান মনস্কতা জেগে উঠবে। আর আপনি ছুটি পেলেই ছুটে চলে যাবেন পার্কস্ট্রিট। প্রাণভরে কেক পেস্ট্রি স্যান্টা ভক্ত হয়ে পড়বেন। এটা একদিকে যেমন ঔপনিবেশিক ঢেকুর বলা যেতে পারে, তেমনই অন্যদিকে অনেকটা ব্যস্ততা আর নিসঙ্গতার মাঝে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানোর একটা মাধ্যমে হিসেবেও দেখা যেতে পারে। আমি কিন্তু একবারও জাজমেন্টাল হয়ে উঠছি না এবং বলছি না এটা ভাল বা খারাপ। শুধুমাত্র দূর্গাপুজো দিয়ে যদি আপনি বাঙালির মাপকাঠি বিচার করেন তাহলে হয়ত ভুল করবেন। আসলে বাঙালি এমন একটা জাতি যারা সব কিছুকেই খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে। এটাই আমাদের একটা বড় বৈশিষ্ট্য বলতে পারেন। কিন্তু আমি একটু অবাকই হলাম যখন যখন কলকাতা থেকে প্রায় ১২০ মাইল দূরে সুন্দরবনে স্যান্টার আগমনী বার্তা পেলাম। গদখালি থেকে নৌকা করে যখন সজনেখালিতে পৌঁছলাম ঘড়ি বলছে তখন প্রায় সাড়ে তিনটে। বাজার প্রায় সুনশান। কিন্তু দুপুর হয়ে যখন বিকেলের দিকে বাজারের পথ হয়ে বাড়ি আসছি তখন দেখি সেখানে বাজারে কলকাতার মতন বিক্রি হচ্ছে ক্রিসমাস কেক, ট্রি আর পাশে স্যান্টা ক্লজের হরেক রকমের পুতুল।

গোসাবা বাজারে দেদারে বিকোচ্ছে কেক। সাগ্নিক চৌধুরীর তোলা ছবি।

একটু অবাক হয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে ওখানকার কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসা করলাম এটা কী রকম হল এখানে বাঘের পুতুলের পাশাপাশি স্যান্টা? ওনাদের মধ্যে থেকে একজন মুচকি হেসে বললেন কেন দাদা! আপনাদের তো আনন্দ করার জন্য পার্কস্ট্রিট আছে আর আমরা সামান্য এক মুঠো শহরের আনন্দ উপভোগ করলেই আপনারা এমনভাবে তাকাবেন। সত্যি বলতে একটু লজ্জিত তো হলাম বটে কিন্তু মনে একটা অদ্ভুদ খুশির আভাসও তৈরি হল।

আসলে বিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে যে উত্তর আধুনিকতার বহর শুরু হয়েছে তার প্রভাব যে কলকাতা থেকে ১২০ মাইল দূরে এসে আচড়ে পড়তে পারে সেই ভাবনার আমার পুচকে মাথায় যে আসবে না তা খুবই স্বাভাবিক। একদিকে যেমন ভাল লাগল তেমন অন্যদিকে সামান্য হলেও আশাহত হলাম। আসলে এই গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো জেনেই করুক বা যুগের তালে তাল মিলিয়েই করুক, এই বাজারিকরণ আর বিশ্বায়নের প্রভাব যে ধীরে ধীরে এদের সহজ সরল মনের মধ্যে ইদুর দৌড়ে সামিল হওয়ার একটা প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে তা বলা-ই বাহুল্য। যদিও এর প্রভাব ভাল হবে নাকি খারাপ সেই দ্বন্দ্ব বা আলোচনা, সমালোচনাতে যাব না এর উত্তর মহাকালই দেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!