মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০
Home Entertainment লকডাউনের মাঝে ঘরের ফেরার গল্প নিয়ে হাজির ‘ফিরান’

লকডাউনের মাঝে ঘরের ফেরার গল্প নিয়ে হাজির ‘ফিরান’

৩৯৮ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

সব ঘটনার পিছনে যুক্তি, কারণ ইত্যাদি খুঁজতে নেই। খোঁজা যায় না। খুঁজে কোনো লাভ হয় না। যা হওয়ার, সেটা হয়। এবং এই বাস্তবটা মেনে নিতেই অনেক সময় আমাদের কষ্ট হয়। দ্বিধা বোধ করি।

১৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের শর্ট ফিল্ম ফিরানের মাধ্যমে সহজ ভাষায় এই গল্পই বলতে চেয়েছেন শিলিগুড়ির তরুণ চিত্রপরিচালক, পেশায় সাংবাদিক দীপ সাহা। সারা বিশ্বের মানুষ এখন সম্ভবত একটা বিষয় নিয়েই আলোচনা করছেন, তা হল কোভিড-১৯। গত তিন-চার মাসে আমাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করেছে এই মারণ ভাইরাস। দৈনন্দিন জীবন, জীবিকা থেকে শুরু করে সম্পর্ক- নানা ক্ষেত্রেই নেতিবাচক পরিণাম দেখা গিয়েছে। গত মার্চ মাসে যখন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউন ঘোষণা করলেন, চরম বিপাকে পড়েছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা আটকে পড়েন।

তবে এই সঙ্কট আমাদের অনেক জিনিস নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে। দিনের শেষে ঘরে ফেরার মতো সুখ যে আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না, সেটা ফিরানের অমিতের গল্পের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ একদিন সে গায়েব হয়ে যায়। কেউ তার ব্যাপারে কিচ্ছু জানত না। কিন্তু লকডাউনের মাঝেই সেই অমিত হঠাৎ একদিন তার পাড়ায় উদয় হয়। চোখে, মুখে ক্লান্তির ছাপ। জীবন যুদ্ধে হাঁপিয়ে পড়েছে।

এত বছর পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। তাতে সবার খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে পুরোপুরি তা ঘটেনি। আর তার কারণ এই লকডাউন। মানুষে আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে আমূলে বদলে দিয়েছে এই ভাইরাস। অনেক মানুষের কাজ নেই, রোজগার বন্ধ। অমিতের দাদাও খুব একটা স্বচ্ছল নয়। ভাই ফিরে আসার খবর তিনি বেজার খুশি হয়েছিলেন। ভাইকে বাড়িতে আনার জন্য যখন বেরোতে যাবেন তখন তার স্ত্রী পথ আটকে দাঁড়ায়। তার স্পষ্ট বক্তব্য, এই লকডাউনে নিজেদেরই যখন ঠিক নেই, তখন আবার একজনের বোঝা কাঁধে না চাপানোই ভালো। স্ত্রীর জেদের সামনে অমিতের দাদা আর কিছু করতে পারেননি। এরপর অমিতের বন্ধুরা তার প্রেমিকা সীমা। এক সময় সীমাই ছিল অমিতের সব কিছু।

কিন্তু তার জীবনেও এতদিনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বাড়িতে একা থাকে। বাবা-মা কেউ নেই। অমিতের বন্ধুরা ঠিক করে, সীমার বাড়ির ছাদে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখবে। তারপর তার একটা ব্যবস্থা করা হবে। শুরুতে সীমা এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। পাড়ার লোকে কি বলবে ভেবে সে দ্বিধা প্রকাশ করে। কিন্তু হাজার হোক, ভালোবাসার টান একটা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সীমাই হয়ে দাঁড়ায় অমিতের আশ্রয়স্থল।

ফিরানের গল্প লিখেছেন কৌশিক দত্ত। স্ক্রিপ্ট এবং স্ক্রিনপ্লেও লিখেছেন কৌশিক এবং দীপ। অভিনয় করেছেন অনিত, সুজয়, কৌশিক, অলোকা, অনির্বাণ, ক্যামেলিয়া এবং দীপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অর্ণব গোস্বামী মোটেও ভুল বলছেন না, বলিউডের থেকে গ্রামগঞ্জের যাত্রাপালায় ভালো অভিনয় দেখা যায়

বিশ্বজিৎ মান্না জীবনে এই প্রথমবার অর্ণব গোস্বামীর সাথে একমত না হয়ে পারছি না। তিনি মেলোড্রামা করেন, নিউজ দুনিয়ার হরনাথ...

নেপালী কবির বাংলা কবিতা

রাজা পুনিয়ানী মূলত নেপালী ভাষায় লেখালেখি করেন। কবি হিসেবে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ছাড়াও নেপালে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি...

বনদপ্তরের সাফল্য, কুলতলিতে খাঁচা বন্দী হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল কুলতলির গ্রামে। সোমবার সন্ধ্যা বেলায় মৈপীট কোস্টাল থানার ৬ নম্বর বৈকন্ঠপুর গ্রামে নদী সাঁতরে ঢুকে...

সাত সকালে সুন্দরবনে বাঘ

রফিকুল ঢালী, কুলতলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি মইপিট বৈকন্ঠপুর গ্রামে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাঘ ঢুকে পড়ে। ভীম...

Recent Comments

error: Content is protected !!