বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১
Home District পাকা রাস্তা হয়েছে, কিন্তু এখনও তিমিরেই পাথরপ্রতিমা

পাকা রাস্তা হয়েছে, কিন্তু এখনও তিমিরেই পাথরপ্রতিমা

৩৫২ Views

সুন্দরবনে রোজগার অন্যতম দুটি মূল ভরসা হল কৃষিকাজ এবং মৎসচাষ। তবে গত কয়েক বছরে এই দুটি ক্ষেত্রতেই স্থানীয়দের রোজগার ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং কৃষি সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধি এর অন্যতম বড় কারণ। দার্জিলিং কিংবা দিঘার মতো এখনও সুন্দরবনে পর্যটনের বিকাশ ঘটেনি। ফলে এই ক্ষেত্র থেকেও রোজগার সামান্য বলা যায়। সব মিলিয়ে সুন্দরবনের অর্থনীতি খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমার পাথরপ্রতিমা ব্লকে গত কয়েক বছর ধরে কৃষি থেকে রোজগার ক্রমশ কমেছে। ধান চাষের পাশাপাশি পাথরপ্রতিমার কিশোরীনগর, হরিমন্দির, বুড়ারবাঁধা, খগেন দাসের বাঁধা, ভগবতপুর, শিবগঞ্জ, মাধবনগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু, টমাটো, লঙ্কা, বেগুন, পান ইত্যাদি চাষও হয়। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল বাজারে নিয়ে যেতে বেশ সমস্যায় পড়তেন। পাথরপ্রতিমা বাজার ছাড়া স্থানীয় আর একটি বড় বাজার বলতে কাকদ্বীপ। কিন্তু সেখানে আগে সরাসরি সড়কপথে যাওয়া যেত না। তবে কয়েকবছর আগে সেই সমস্যার একটা সমাধান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় পাথরপ্রতিমা সড়কপথে কাকদ্বীপের সঙ্গে জুড়েছে। কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা যে হয়েছে সেটা জোর দিয়ে বলা যাবে না। অপ্রশস্ত এই সড়কের অনেক অংশেরই বেহাল দশা। পাথরপ্রতিমা বাজার থেকে হাওড়া, ধর্মতলার মধ্যে সরসারি বাস পরিষেবা চালু হলেও এখনও গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা মেটেনি।

পাথরপ্রতিমায় সোমবার হাট বসে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে বাজার বসলেও মূলত হাটবারের দিন কেনাকাটা বেশি হয়। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই হাট থেকে তাদের সারা সপ্তাহের রসদ সংগ্রহ করেন। তবে সমস্যা হল, কৃষকরা তাদের ফসলের উপযুক্ত মূল্য সব সময় এখানে পান না। আলু, চাল, লঙ্কা, পান চাষীরা বাধ্য হয়ে স্বল্প দামে ফড়েদের কাছে তাদের ফসল বিক্রি করেন। তবে তারা যদি সরাসরি কাকদ্বীপের মতো অপেক্ষাকৃত বড় বাজারে গিয়ে তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পেতেন, তাহলে তাদের সমস্যা কিছুটা লাঘব হত।

অনেক টালবাহানার পর হরিমন্দির বাজার থেকে ভগবতপুর কুমীর প্রকল্প পর্যন্ত পাকা রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। কিশোরীনগরের শেষ প্রান্তে সেতু চালু হওয়ায় এখন পর্যটকরা সরাসরি কলকাতা থেকে সড়কপথে ভগবতপুর কুমীর প্রকল্পে পৌঁছে যেতে পারেন। কিন্তু এই সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড এখনও ঠিকভাবে নির্মাণ করা হয় নি। চারচাকা গাড়ি নিয়ে সেতুতে উঠতে সমস্যা হয়। রাস্তার অনেক অংশ খানা-খন্দে ভরা। পাথরপ্রতিমা বাজার পর্যন্ত বাস পরিষেবা থাকলেও গ্রামের বাকি অংশে এখনও বাস পরিষেবা শুরু হয়নি। ফলে ভগবতপুর, কিশোরীনগরের মতো পাথরপ্রতিমার প্রান্তিক এলাকার কৃষকরা তাদের ফসল খুব সহজে বাজারে নিয়ে যেতে পারেন না। কারণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও সেখানে যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা এখনও সুষ্ঠুভাবে গড়ে ওঠেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

স্যামসনের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং, তবুও শেষ হাসি হাসল পাঞ্জাব

স্কোরবোর্ড বলছে, আইপিএল ২০২১-এর চতুর্থ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ রানে হারিয়ে দিয়েছে পাঞ্জাব কিংস। তবে সেটা দেখে ম্যাচের আসল ছবি বোঝা যাবে...

ধর্নায় বসবেন মমতা

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রচারের উপর 24 ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সেই...

মানুষ মরে এভাবেই, কেউ খোঁজ রাখে না

বিশ্বজিৎ মান্না ধরুন আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে, বাজারের থলে হাতে নিয়ে বেরোলেন। আপনার বাড়ির লোক বা আপনি কী...

ফের ক্ষমতায় দিদি, তবে বিজেপির আসন বাড়বে: বলছে সমীক্ষা

বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে অন্যতম বিরোধী দল হিসাবে বিজেপি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেন্দ্রের শাসক দলের দাবি, রাজ্যে এবার তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছে।...

Recent Comments

error: Content is protected !!