সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০
Home District আতঙ্ক দূরে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ঝড়খালি

আতঙ্ক দূরে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ঝড়খালি

২৭৯ Views

বিশ্বজিৎ মান্না
গত বুধবার সুন্দরবনে আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। তারপর প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল। সুন্দরবনের দিকে তাকালে এখনও শিউরে উঠতে হয়।
তিনটি হারিকেন ঝড়ের সমতুল শক্তিশালী এই ঝড় তছনছ করে দিয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ নামে পরিচিত সুন্দরবনকে। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালি এলাকা। এখনও গোটা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি। আবার কোনো কোনো জায়গায় বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুলে রয়েছে।
জেলার বহু অংশে এখনও ধান, ভূট্টা এবং কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা জলের তলায়। টিনের চালওয়ালা বাড়ির মাথায় কিছু নেই। এছাড়া ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী সহ অন্যান্য প্রাণীর নিথর দেহ। ঝড়খালির গ্রামগুলিতে সাইক্লোন কোনো নতুন জিনিস নয়। গত এক দশকে তারা আয়লা, ফণী এবং বুলবুলের মতো শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব্য সহ্য করেছে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল আম্ফান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জীবনে তারা প্রথমবার এই ধরণের ঝড় দেখলেন। এবং তারা এখনও একটা ঘোর, একটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ঝড় চলে গেলেও কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না আম্ফানের তাণ্ডবলীলা।
তবে ভেঙে পড়লে তো চলবে না। তাই তারা ইতিমধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের অভিযোগ, এখনও তাদের কাছে কোনো সরকারি ত্রাণ এসে পৌঁছায়নি। ঝড়খালি এলাকার লস্করপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় মৃধা যেমন বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করি। লকডাউনের কারণে সমস্ত গ্রামবাসী এখন বাড়িতে রয়েছেন। আমরা সমস্ত ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে দিয়েছি। ভেঙে যাওয়া বাঁধ নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করেছি।
নদীবাঁধে বালির বস্তা ফেলার ফাঁকে সঞ্জয়বাবু আরও বলেন, পরবর্তী সাইক্লোন কবে আবার আমাদের মাথার উপর আছড়ে পড়বে তা কেউ জানে না। প্রশাসনের সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা বসে থাকতে পারি না।
গত বুধবারের ঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় যে শয়ে শয়ে গাছ ভেঙে পড়েছিল, তা গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই অন্যত্র সরানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের খুঁটি মেরামতের জন্য তারা সরকারি পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের একজন ঠিকাদার আব্দুল গফফর বলেন, আমরা দিনে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা করে কাজ করছি। তবে এটা অকল্পনীয়। আমার টিমে চারজন সদস্য রয়েছেন। সার্ভে করার পর আমরা জানতে পারি যে কেএলসি এরিয়াতে প্রায় ৬০০টি এবং ভাঙড় এরিয়াতে কমপক্ষে ৭৫০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, অসংখ্য ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ ঘটেছে বা সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দপ্তরের তরফ থেকে আমাদের বলা হয়েছে প্রথমে সরকারি বিল্ডিংগুলিতে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। সুতরাং আজ আমরা ভাঙড় থানা এবং বিডিও অফিসের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সমর্থ হয়েছি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার মতো তার কাছে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। তিনি দাবি করেছেন, অন্তত ১,০০০ বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন জেলাজুড়ে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র- দ্য প্রিন্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

এক ওভারে পাঁচ ছক্কা: আইপিএল ২০২০-তে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন রাহুল তেওয়াটিয়া

রবিবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একটি ম্যাচে শার্জায় মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস এবং কিংস ইলেভন পাঞ্জাব। এই ম্যাচে ব্যাটিং দক্ষতার মাধ্যমে চাঞ্চল্য...

করোনা আক্রান্ত পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা, আরোগ্য কামনায় পূজার আয়োজন করল তৃণমূল

বিশ্বজিৎ মান্না পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস।...

আইপিএল ২০২০: সম্পূর্ণ সূচি, তারিখ, ভেনু

বহু প্রতিক্ষিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারে ভারতের বদলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএল। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে...

বাবর আজমকে দিশাহীন মনে হচ্ছে: শোয়েব আখতার

ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠি দ্বিতীয় টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৬ রানের টার্গেট সহজে পৌঁছে গিয়ে ৫ উইকেটে জয় অর্জন করেছে আয়োজক...

Recent Comments

error: Content is protected !!