রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
Home Uncategorized আতঙ্ক দূরে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ঝড়খালি

আতঙ্ক দূরে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ঝড়খালি

৫১২ Views

বিশ্বজিৎ মান্না
গত বুধবার সুন্দরবনে আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। তারপর প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল। সুন্দরবনের দিকে তাকালে এখনও শিউরে উঠতে হয়।
তিনটি হারিকেন ঝড়ের সমতুল শক্তিশালী এই ঝড় তছনছ করে দিয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ নামে পরিচিত সুন্দরবনকে। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালি এলাকা। এখনও গোটা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি। আবার কোনো কোনো জায়গায় বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুলে রয়েছে।
জেলার বহু অংশে এখনও ধান, ভূট্টা এবং কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা জলের তলায়। টিনের চালওয়ালা বাড়ির মাথায় কিছু নেই। এছাড়া ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী সহ অন্যান্য প্রাণীর নিথর দেহ। ঝড়খালির গ্রামগুলিতে সাইক্লোন কোনো নতুন জিনিস নয়। গত এক দশকে তারা আয়লা, ফণী এবং বুলবুলের মতো শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব্য সহ্য করেছে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল আম্ফান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জীবনে তারা প্রথমবার এই ধরণের ঝড় দেখলেন। এবং তারা এখনও একটা ঘোর, একটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ঝড় চলে গেলেও কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না আম্ফানের তাণ্ডবলীলা।
তবে ভেঙে পড়লে তো চলবে না। তাই তারা ইতিমধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের অভিযোগ, এখনও তাদের কাছে কোনো সরকারি ত্রাণ এসে পৌঁছায়নি। ঝড়খালি এলাকার লস্করপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় মৃধা যেমন বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করি। লকডাউনের কারণে সমস্ত গ্রামবাসী এখন বাড়িতে রয়েছেন। আমরা সমস্ত ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে দিয়েছি। ভেঙে যাওয়া বাঁধ নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করেছি।
নদীবাঁধে বালির বস্তা ফেলার ফাঁকে সঞ্জয়বাবু আরও বলেন, পরবর্তী সাইক্লোন কবে আবার আমাদের মাথার উপর আছড়ে পড়বে তা কেউ জানে না। প্রশাসনের সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা বসে থাকতে পারি না।
গত বুধবারের ঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় যে শয়ে শয়ে গাছ ভেঙে পড়েছিল, তা গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই অন্যত্র সরানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের খুঁটি মেরামতের জন্য তারা সরকারি পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের একজন ঠিকাদার আব্দুল গফফর বলেন, আমরা দিনে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা করে কাজ করছি। তবে এটা অকল্পনীয়। আমার টিমে চারজন সদস্য রয়েছেন। সার্ভে করার পর আমরা জানতে পারি যে কেএলসি এরিয়াতে প্রায় ৬০০টি এবং ভাঙড় এরিয়াতে কমপক্ষে ৭৫০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, অসংখ্য ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ ঘটেছে বা সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দপ্তরের তরফ থেকে আমাদের বলা হয়েছে প্রথমে সরকারি বিল্ডিংগুলিতে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। সুতরাং আজ আমরা ভাঙড় থানা এবং বিডিও অফিসের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সমর্থ হয়েছি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার মতো তার কাছে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। তিনি দাবি করেছেন, অন্তত ১,০০০ বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন জেলাজুড়ে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র- দ্য প্রিন্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আজ বৃষ্টি হতে পারে

কলকাতা ও তার আশেপাশে আজ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১-এর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অ্যাকুওয়েদার ডট কম...

সাইক্লোনের পর ত্রাণের সাথে সুন্দরবনে ঢুকেছে প্রচুর প্লাস্টিক, সঙ্কটে বাস্তুতন্ত্র

করোনা মহামারি, সাইক্লোনের মতো সমস্যায় এমনিতেই সুন্দরবনের নাজেহাল অবস্থা। তার ওপর সেখানে আবার এক নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাইক্লোন...

১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে সুন্দরবন

সুন্দরবনের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হল পর্যটন। তবে বিগত দু বছরে করোনার জেরে বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে পর্যটন ধাক্কা খেয়েছে। মাঝে খোলা হলেও, করোনার...

সুন্দরবনের অন্যতম স্কুল: বরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠ

ইন্দ্রবরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠের পথ চলা শুরু হয় ১৯৬০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দিকে স্কুলটি মাটির দেওয়াল ও টালির চাল দিয়ে তৈরি...

Recent Comments

error: Content is protected !!