সোমবার, মে ১৭, ২০২১
Home country একুশ মানে মাথা নত না করা

একুশ মানে মাথা নত না করা

৩৮০ Views

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরা নয়, বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালিরা এই দিনে নিজেদের ভাষার উদযাপনে মেতে ওঠেন। তবে সবচেয়ে বড় উদযাপন হয় বাংলাদেশে। যে দেশের সবাই বাংলায় কথা বলেন, সেখানে মাতৃভাষা নিয়ে উন্মাদনা একটু বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

একুশ মানে তারুণ্য, একুশ মানে প্রতিবাদ, একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ মানে নিজের অধিকারের জন্য লড়ে যাওয়া। এই বিশ্বাসকে পাথেয় করে শুক্রবার মাতৃভাষা বাংলাকে উদাযাপন করতে মেতে উঠল বাংলাদেশ। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অনেক বাঙালি রক্ত ঝরিয়েছিলেন।

বিডি নিউজ ডট কমের একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সেই বাঙালি ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া। তারাও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা অর্পণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির সেই রক্তস্নান গৌরবের সুর বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রাণে অনুরণিত হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সহ সমগ্র বাংলাদেশে এখন উৎসবের পরিবেশ। ঢাকায় রাত ১২টার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনের নেতা-কর্মী সহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারের কাছে ভিড় জমান। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। সবার কন্ঠে তখন সেই বিখ্যান গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি..।’

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মিছিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ আরও অনেকে। এই ঘটনার পর বাঙালিদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে ওঠে। শেষে হার মানতে বাধ্য হন পাকিস্তানের শাসকরা। ১৯৭১ সালে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। পরে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। প্রতিবছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে বাংলাদেশে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ঢাকার রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ফের মৃত্যু

শাহীন বিল্লা, সাতক্ষীরাসুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে রেজাউল ইসলাম নামে এক মৌয়াল নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ মে) বিকেলে বাংলাদেশের পশ্চিম...

দৈনিক সুন্দরবনের সাংবাদিককে মারধর

দৈনিক সুন্দরবন ওয়েবসাইটের এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠল কুলতলিতে। কোভিড বিধি না মেনে শুক্রবার কুলতলীর রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে জেটিঘাটে অনেকে ভিড়...

বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে: মোদিকে চিঠি বিরোধীদের

ভারতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। হাসপাতালো রুগীর জায়গা নেই। অক্সিজেনের অভাব। ভ্যাকসিনের অভাব। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।...

অতিমারির অন্ধকারে ঈদে চাঁদ যেন আশার আলো

সীতাংশু ভৌমিক, ফরিদপুর (বাংলাদেশ) প্রতিবছর ঈদ আসে, পরিযায়ী শ্রমিক-কর্মজীবী মানুষেরা স্বজনদের কাছে ফিরে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকেই...

Recent Comments

error: Content is protected !!