বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১
Home District হায়নার আক্রমণ থেকে বাঁচার পাঁচটি উপায়

হায়নার আক্রমণ থেকে বাঁচার পাঁচটি উপায়

৭৬২ Views

সাগ্নিক চৌধুরী

কথায় বলে মাঘের শীত বাঘের গায়ে, কিন্তু স্যার একবার ভেবে দেখুন এই মাঘে শীতে কাঁপতে কাঁপতে হঠাৎ-ই যদি বাঘ-বাবাজি আপনার চৌকাঠে এসে হাজির হন তাহলে আপনি কী করবেন? আরে নাহ, একদম ইয়ার্কি মারছি না, আপনার মনে হয় আমি এমন করতে পারি? কিন্তু যদি সুন্দরবনের আশেপাশে যারা থাকেন তারা বাঘ-বাবা জীবনের দেখা না পেলেও হায়নার দর্শন পেয়েই থাকেন। এরা কিন্তু বাঘ, সিংহের মতন না হলেও কম হিংস্র নয়। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা সবাই পুরোদস্তুর মাংসাশী শিকারী। এসকল প্রাণীরা সাধারণত মানুষ শিকার করে না। কিন্তু কোনো কারণে সুযোগ পেলে কিংবা খাদ্যের অভাব থাকলে এরা মানুষকে হত্যা করতে কিংবা খেয়ে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করবে না। বিড়াল গোত্রের যেসব প্রাণীরা আকারে বড়, গঠন ও স্বভাবগত কারণে তাদের পেশীগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষিপ্র হয়। ফলে এদের সঙ্গে লড়াই করে একাকী একজন মানুষ সুবিধা করতে পারার সম্ভাবনা খুব কম। তাই যেন এদের মুখোমুখি হতে না হয়, সে ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।

এই বিষয়গুলি একটু মাথায় রাখবেন:

১. হায়না বিভিন্ন অঞ্চলের লোকালয়ের আশেপাশের বনজঙ্গল বা পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে থাকে এবং ঘরের উঠোনে পর্যন্ত এদের দেখা মিলতে পারে। তাই এই ধরনের এলাকায় বিশেষ করে অন্ধকারে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
২. হায়না আকারে তুলনামূলক ছোট বলে সাধারণত পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষকে আক্রমণ করতে চায় না। তবে ছোট শিশুরা এদের লক্ষ্য হতে পারে। তাই বাচ্চাদের সাবধানে রাখতে হবে।
৩. হায়না কখনও কখনও গৃহপালিত কুকুরের উপর হামলা করে থাকে। তাই কুকুরসহ পোষা প্রাণীদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে।

৪. হায়নার সঙ্গে কোনো প্রকার অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া একদমই অসম্ভব ব্যাপার। বাঘ যদিও একাকী জীবনযাপন করে থাকে করে, কিন্তু বাঘ অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রকৃতপক্ষে স্থলভাগের মাংসাশী শিকারীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সে। আপনি যতই বলবান হোন না কেন, কৌশল অবলম্বন না করে কিংবা কোনো অস্ত্রের সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র শক্তি দিয়ে একটি বাঘের সাথে আপনি কখনোই পেরে উঠবেন না। সিংহ আর হায়নার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, তদুপরি তারা দলবেঁধে থাকে। তবে এরা যেহেতু লোকালয়ের বাইরে গভীর বনে বসবাস করে, তাই ধরে নেওয়া যায় যে, আপনি কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই এদের এলাকায় বেড়াতে যাবেন না।

৫. আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সম্ভব হলে ৪-৫ জন বা তার চেয়ে বড় দলবেঁধে চলাফেরা করুন।

যদিও একটা কথা শেষে বলব, এই পদ্ধতি অবলম্বন করে হয়তো সহজেই হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবেন। তবুও পরিস্থিতি বুঝে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিলে নিজের এবং অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!