আমেরিকায় বাঘের শরীরে কোভিড-১৯: কতটা নিরাপদ সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার?

১৭০ Views

দৈনিক সুন্দরবন ডেস্ক

করোনাভাইরাস ঘিরে বিশ্বজুড়ে গত কয়েকমাস ধরে এমনিতেই তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। তারই মধ্যে খবর পাওয়া যায়, আমেরিকায় বাঘের শরীরের পাওয়া গিয়েছে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি। এই খবর দাবানলের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই নয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতে বাঘের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হল সুন্দরবন। আমেরিকার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের বাঘেদের নিয়েও অল্পবিস্তর আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল। যদিও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের বাঘের অর্থাৎ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সর্বশেষ সেন্সাস রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের এই জীবমণ্ডলে ৮৮টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ডব্লুডব্লুএফ-ইন্ডিয়ার টাইগার রিজার্ভ কনজারভেশন প্রোগ্রামের কোঅর্ডিনেটর প্রণব চাঞ্চানি বলেন, অনন্য ভৌগলিক অবস্থান এবং সংরক্ষিত অরণ্যের টোপোগ্রাফির কারণে সুন্দরবনের বাঘেদের সুবিধা আছে। প্রণব চাঞ্চানি বলেন, চোরাশিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তন এখনও সবচেয়ে বড় আশঙ্কা পেশ করেছে। তবে সুন্দরবনের বাঘেদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা সেরকম নেই। তবে সবাধানতা অবলম্বন অবশ্যই প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকায় বাঘের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি ধরা পড়ায় সুন্দরবনে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ৮৮টি বাঘের আচরণের উপর এখন কড়া নজরদারি চলছে বলে ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রংক্স চিড়িয়াখানা থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতিতে এনটিসিএর তরফ থেকে ভারতের সমস্ত টাইগার হ্যাবিটাটে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অসুস্থ প্রাণীদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের জয়েন্ট ডিরেক্টর এস কুলান্দিভেল বলেন, সুন্দরবনের ভৌগলিক চরিত্রের কথা বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি, এখানে বাঘেরা (করোনাভাইরাস) থেকে নিরাপদ। তবুও আমরা চব্বিশ ঘন্টা নজরদারি রাখছি। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। সমস্ত এন্ট্রি এবং এগজিট পয়েন্ট সিল করে দেওয়া হয়েছে।

প্রখ্যাত ব্যাঘ্র বিশারদ আরও জানান, মানুষের কার্যাবলী এবং ইন্টারঅ্যাকশন সুন্দরবনে একটা বিরল ব্যাপার। তিনি বলেন, কেবলমাত্র খাঁড়ি বা সংকীর্ণ খালের মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মধ্যে দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করা যায়। সাধারণ মানুষ বা বন্যপ্রাণ আধিকারিকরা কোনো বন্য প্রাণীর কাছে যাবেন না। সুতরাং সুন্দরবনে প্রবেশ এবং মানুষের থেকে বাঘের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই। তবুও আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বনদপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিএসএফের ওয়াটার পেট্রোল ইউনটের তরফ থেকে সুন্দরবনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এন্ট্রি এবং এগজিট পয়েন্টে নজর রাখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল কনজারভেটর অব ফরেস্টস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ রবিকান্ত সিনহা ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় জানিয়েছেন, জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে রাখা ট্র্যাপ ক্যামেরার ফুটেজ এবং ছবি অনবরত বিশ্লেষণ করে চলেছে একটি নির্দিষ্ট দল। তিনি বলেন, অফিসারদের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বন্যপ্রাণীর মধ্যে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে তা অবিলম্বে জানাতে বলা হয়েছে। জঙ্গলে প্রবেশের সময় সমস্ত ফিল্ড অফিশিয়ালদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ফিল্ড ম্যানেজার, বন আধিকারিক এবং পশু চিকিৎসকদের নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হল বিশ্বের একটি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণী। এটি বিভিন্ন কারণে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করে চলেছে। চোরাশিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জীর মতে, সুন্দরবনে এবং তার আশেপাশে স্টাফ ও গ্রামবাসীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীদের আপৎকালীন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সুন্দরবনের ৪০০০ বর্গ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সুন্দরবনের বাকিটা রয়েছে বাংলাদেশে। ১৯৮৭ সালে সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইউনেস্কো।

বাঘ ছাড়াও ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে রয়েছে নোনো জলের কুমির সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!