বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৯, ২০২১
Home Latest ভারী বৃষ্টি কমাতে পারে যশের দাপট, মনে করছেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী

ভারী বৃষ্টি কমাতে পারে যশের দাপট, মনে করছেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী

৫০৮ Views

প্রত্যয় চৌধুরী
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গতকালই সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা সাগরদ্বীপ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছেন। অতিমারী ও ঘূর্ণিঝড় এই দুই পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই জোরকদমে কাজ চলছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ আধিকারিক ও সেচ দফতরের কর্মীদের নিয়ে সুন্দরবন DS-2 এলাকা, বঙ্কিম্নগর, সুমতিনগর এলাকা ঘুরে দেখছেন বঙ্কিম বাবু।

এদিকে সময়ে সময়ে গতিবিধি বদলাচ্ছে যশ। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা তাই বদলে যাচ্ছে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। দৈনিক সুন্দরবনকে বঙ্কিম বাবু জানান, যশের গতিপ্রকৃতি সময়ের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাগরদ্বীপ। সেই কেন্দ্রবিন্দু বদলে এখন চলে গিয়েছে উড়িষ্যার উপকূলবর্তী এলাকায়। বর্তমানে যশের বকখালি হয়ে কুলতলির দিকে ধেয়ে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে।

কিন্তু আশঙ্কা অন্য। পূর্ণিমার ভরা কোটালে উপকূলের জলের উচ্ছ্বাস প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। অর্থাৎ যশের জন্য সমুদ্রের জলের উচ্ছ্বাস যত না হবে, ভরা কোটাল এতে যোগ করবে আরও প্রাবল্য। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বাতাসের বেগ সমুদ্রের জলে যে টান সৃষ্টি করবে, তাতে জলের উচ্চতা ৬.৫ ফুট হয়ে গেলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে যাবে। তবে দীর্ঘদিনের ঘূর্ণিঝড় দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বঙ্কিম বাবু জানান, “আমরা আয়লা দেখেছি, বুলবুল দেখেছি, আমফানও দেখেছি। যদি ভারী বর্ষণ হয় তবে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমে।”

ইতিমধ্যেই উপকূলের বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘোড়ামারা থেকে ১৫০০ মানুষকে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি লোকজনদের জন্য একটি প্রাইমারী স্কুল, একটি হাই স্কুল এবং আরেকটি সেফ হোমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ৫ বেডের কোভিড সেন্টারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে চিকিৎসকেদেরও, যাতে এই অতিমারীর সময়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে এবং প্রয়োজনে লোকে সেবা পায়।

কাল সকালের মধ্যে ফ্লাড সেন্টারগুলিতে সমস্ত বাসিন্দাদের স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগণার জেলাশাসকদের সাথে ভার্চুয়াল কনফারেন্স করা হয়েছে। সেই আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ৪-৫ ফ্লাড সেন্টার পিছু একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে। যদি কোনও আপতকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে অ্যাম্বুলেন্সগুলির সাহায্য নেওয়া হবে। উপকূলের বাসিন্দাদের মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনার পর তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের কোভিড টেস্ট করিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজন পড়লে স্থানান্তর করা হবে হাসপাতালে।

ডায়মন্ডহারবারের একটি হাসপাতাল যেটি ক্যানিং মহকুমায় পড়ে, সেটিকে ৫০ বেডের একটি কোভিড সেন্টার করা হয়েছিল। তার সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০। এছাড়া বালিতে একটি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল রয়েছে এবং গঙ্গাসাগরের একটি হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল করা হয়েছে। এভাবেই চলছে সমস্ত ব্যবস্থাপনা। মোট কথা, যশ রুখতে সুন্দরবনের মানুষদের নিয়ে প্রস্তুত উন্নয়নমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

কুমীরের আক্রমণে আহত রাক্ষসখালীর যুবক

কুমীরের আক্রমণে গুরুতর আহত রাক্ষসখালীর এক যুবক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নদীতে মাছ ধরার সময় এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম...

আফগানিস্তানে খতম ২৬২ তালিবান, দেশজুড়ে কার্ফিউ

গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানে মোট ২৬২ জন তালিবান জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই খবর জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, আফগান...

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ডেবিউ করতে পারেন বরুণ চক্রবর্তী

আপাতত ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা সহ টিম ইন্ডিয়ার সিনিয়র খেলোয়াড়রা সেই স্কোয়াডে রয়েছেন। তাই শ্রীলঙ্কা সফরে...

কমছে কোভিড, সোমবার থেকে দিল্লিতে ১০০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে চলবে মেট্রো

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। খুলে যাচ্ছে দোকানপাট, সিনেমা হল। শনিবার দিল্লি সরকারের একটি অর্ডার থেকে জানা গিয়েছে, এবার দেশের রাজধানীতে...

Recent Comments

error: Content is protected !!