রবিবার, জুন ২০, ২০২১
Home country কিভাবে গঙ্গাসাগরে যাবেন

কিভাবে গঙ্গাসাগরে যাবেন

৩২১ Views

দৈনিক সুন্দরবন ডেস্ক

কুম্ভ মেলার পর গঙ্গাসাগর মেলা হল বিশ্বের দ্বিতীয় হিন্দু পুণ্যার্থীদের জমায়েত। বছরে একবার গঙ্গাসাগর মেলা কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরে আসেন। এখানে গঙ্গা এবং বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে তারা পবিত্র স্নান করার পর কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেন। কপিল মুনির মন্দিরকে একটি জাগ্রত মন্দির বলে মনে করা হয়।

গঙ্গাসাগর যেখানে অনুষ্ঠিত হয়, অর্থাৎ সাগরদ্বীপ হল গঙ্গার একটি বদ্বীপ। বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত এই দ্বীপ কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বদ্বীপের আয়তন প্রায় ২২৫ কিলোমিটার। শুধু একটি তীর্থস্থানই নয়, পর্যটনস্থল হিসেবে সাগরদ্বীপের আলাদ গুরুত্ব রয়েছে। পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি যারা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ভালোবাসেন, তাদের কাছে সাগরদ্বীপ একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের অন্যতম বৃহৎ এই বদ্বীপের  উপকূলে রয়েছে বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত, যার টানে পর্যটকরা বার বার এখানে ফিরে আসেন। সমুদ্র সৈকতের ঝকঝকে রুপোলি বালি, পরিষ্কার আকাশ এবং শান্ত সমুদ্রের মাদকতাই আলাদা! উইকএন্ড কাটানোর একটি আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে সাগরদ্বীপ।

পর্যটনের সমস্ত উপকরণ মজুত থাকলেও পর্যটকদের কাছে এখনও সেভাবে পরিচিতি লাভ করেনি সাগরদ্বীপ। প্রচারের আড়ালেই রয়ে গিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর এই সমুদ্র সৈকত। ভারতে হিন্দু পুণ্যার্থীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হল সাগরদ্বীপের গঙ্গাসাগর মেলা। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের জন্য সাগরদ্বীপে জড়ো হন।

হিন্দুদের অনেক পৌরাণিক কাহিনীতে গঙ্গাসাগরের উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাতেও গঙ্গাসাগরের নাম উল্লেখ করেছেন। সাগরদ্বীপের লাইটহাউস থেকে সমুদ্র সৈকতের অপরূপ দৃশ্য জীবনে একবার হলেও দেখা উচিত! সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্যও সাগরদ্বীপ একটি আদর্শ জায়গা।

কিভাবে পৌঁছবেন

আকাশপথে- গঙ্গাসাগরের নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভারতের অন্যান্য শহরের সঙ্গে এই শহর আকাশ পথে যুক্ত।

ট্রেনপথে- শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় নামখানার ট্রেনে উঠতে হবে। বকখালির কাছে মুড়িগঙ্গা থেকেও নদীপথে গঙ্গাসাগরের পথে রওনা হওয়া যায়। এছাড়া শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে কাকদ্বীপে নেমেও গঙ্গাসাগরে যাওয়া যায়। কাকদ্বীপে নেমে লট নম্বর ৮ থেকে ভেসেলে করে গঙ্গাসাগরে যাওয়া যায়।

সড়কপথে- কলকাতা থেকে সড়কপথে হারউড পয়েন্ট পর্যন্ত যাওয়া যায়। মুড়িগঙ্গা পেরিয়ে তারপর কচুবেড়িয়া পৌঁছতে হবে। কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগরে সরাসরি যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। এছাড়া এখান থেকে গাড়ি বুক করেও যাওয়া যেতে পারে।

কপিল মুনির মন্দির

কপিল মুনির মন্দির গঙ্গাসাগরে অবস্থিত। কপিল মুনির মন্দিরের স্থাপন নিয়ে সর্বজনগ্রাহ্য কোনো মতামত পাওয়া যায় না। তবে অধিকাংশরাই মনে করেন, ১৪৩৭ সালে স্বামী রামানন্দ এই মন্দির স্থাপন করেছিলেন। মন্দিরটির কাঠামো স্টোন ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই মন্দিরটি কপিল মুনির স্বরূপ বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। মন্দিরের ভিতরে কপিল মুনির মূর্তি আছে। সেখানে দেখা যায় তার এক হাতে রয়েছে জলের পাত্র এবং অন্য হাতে কন্ঠির মালা। এর পাশাপাশি ভগীরথ, রাম এবং সীতার ছবিও মন্দিরে দেখা যায়। এখানে মকর সংক্রান্তির দিন গঙ্গাসাগর মেলা উদযাপন করা হয়। মন্দিরে যাওয়ার আগে পুণ্যার্থীরা গঙ্গায় পুণ্যস্নান করেন। মন্দিরের প্রকৃত স্থানটি সমুদ্রের জলে ধুয়ে গিয়েছে। তার বদলে একটি নতুন এবং দৃষ্টিনন্দন মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। এই মন্দিরে কপিল মুনির মূর্তির পাশে সমুদ্রের প্রতীক এবং গঙ্গাদেবীকেও দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!