রবিবার, জুন ২০, ২০২১
Home feature ইতালি, কানাডা এবং দুবাইয়ে ব্যাপক চাহিদা! এবার বিদেশে পাওয়া যাবে জয়নগরের মোয়া

ইতালি, কানাডা এবং দুবাইয়ে ব্যাপক চাহিদা! এবার বিদেশে পাওয়া যাবে জয়নগরের মোয়া

৩৮৫ Views

এতদিন দেশ কাঁপিয়েছে। এবার বিদেশ কাঁপাচ্ছে জয়নগরের মোয়া!

বিষয়টা এখন আর পরিকল্পনার স্তরে নেই। রীতিমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরিনে পাঠানো হয় জয়নগরের মোয়া। এবং ভালো খবর হল, পার্সিয়ান উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দেশের জয়নগরের মোয়া পছন্দ হয়েছে। প্রথম দফায় ৪৫ কেজি মোয়া পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের পছন্দ হওয়ায় এর দ্বিগুণ মোয়ার অর্ডার এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে। দ্য হিন্দু পত্রিকার একটি প্রতিবেদন থেকে এই খবর জানা গিয়েছে।

মূলত শীতকালেই জয়নগরের মোয়া পাওয়া গেলেও এর জনপ্রিয়তা প্রবল। কলকাতা তো বটেই, বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জয়নগরের মোয়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তবে এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও জয়নগরের মোয়া বিদেশে রপ্তানি করার বিষয়টি নিয়ে সেরকম কোনো প্রস্তাব এতদিন ছিল না।

দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুস্মিতা দত্ত নামে কলকাতার এক সব্জি, ফল রপ্তানি সংস্থার আধিকারিক বলেন, বিমানে করে মঙ্গলবার মোয়া পাঠানো হয়েছিল। সেটা বুধবার গিয়ে পৌঁছায়। একদম ভালো অবস্থাতেই বাহরিনে পৌঁছেছে জয়নগরের মোয়া। গ্রাহকরা এর মধ্যেই সংগ্রহ করেছেন। এবং তারা এতটাই পছন্দ করেছেন যে পাঠানো অর্ডারের দ্বিগুণ অর্ডার করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রথম অর্ডার পাঠানো হয়েছিল।

বাহরিনে মোয়া পাঠানোর কাজে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে APEDA (Agricultural and Processed Food Products Export Development Authority)-এর লোকাল ইউনিট। বিদেশে জয়নগরের মোয়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখে তারাও খুব খুশি। APEDA-এর রিজিওনাল ইনচার্জ সন্দীপ সাহা হিন্দুর রিপোর্টে বলেন, অনেক আগেই এটা হওয়া উচিত ছিল। আমরা খুশি যে সেটা শেষপর্যন্ত হল। আলফোনসো আম, দার্জিলিংয়ের চা, বাসমতী চালের মতো এবার আর একটি জিআই-ট্যাগ বিশিষ্ট প্রোডাক্ট হিসাবে জয়নগরের মোয়াও বিদেশে রপ্তানি করা হবে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে অন্যান্য দেশেও মোয়া রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। ইতালি, কানাডা এবং দুবাই থেকে আমরা চাহিদার খবর পাচ্ছি। এই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াতেও মোয়া রপ্তানির কথা বলছি। প্রচার না করলে মোয়া কেবলমাত্র বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে

ইতিহাস বলছে, ১৯০৪ সাল থেকে মোয়া পথ চলতে শুরু করেছিল। মোয়ার সাথে জয়নগরের নাম শুরু থেকেই জড়িয়ে রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে মোয়া তৈরির পদ্ধতিও বদলেছে। এখন মোয়া তৈরি রীতিমতো একটি সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। জয়নগর মোয়া নির্মাণকারী সোসাইটি এটি পরিচালনা করে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে জিআই ট্যাগ অর্জন করে জয়নগরের মোয়া। এখনও পর্যন্ত সোসাইটির সাথে রেজিস্টার্ড ৪৬টির মধ্যে ২৬টি নথিভুক্ত নির্মাণকারীরা জয়নগরের মোয়া তৈরির সার্টিফিকেট পেয়েছে। বাকি ২০টির আবেদন প্রসেস করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!