রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
Home Uncategorized জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও আমাদের সুন্দরবন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও আমাদের সুন্দরবন

২৩০ Views

সিতাংশু ভৌমিক অঙ্কুর, ফরিদপুর (বাংলাদেশ)
সাধারণত কোনাে স্থানের প্রতিদিনের বায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুচাপের মিলিত অবস্থাকে আবহাওয়া বলা হয়। আর আবহাওয়াবিদদের গবেষণা মতে, ঐ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার গড় ফলই হলাে। জলবায়ু। আর এ জলবায়ুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের নানা পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে উষ্ণায়নের মাত্রা বেড়ে যায়। আজ পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এক গুরুত্বপূর্ণ আলােচনার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অবশ্য ইতােমধ্যে বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর নানাবিধ পরিবর্তন এবং এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবের কারণসমূহ উদঘাটন করেছেন । উন্নত বিশ্বে বহুল আলােচিত গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। গ্রিন হাউজ গ্যাসের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ভূমণ্ডলে ব্যাপক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত মহাকাশ থেকে সূর্যের তাপশক্তি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসে এবং তার অধিকাংশই আবার বিকিরিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাস জমা হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করে ফলে এসব গ্যাসই তাপ শােষণ করে সমগ্র ভূপৃষ্ঠকে মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত রাখে । আইপিসিসি চতুর্থ প্রতিবেদন (২০০৭)-এর তথ্য থেকে জানা যায় যে, গত শতাব্দীতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ২৫%, নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ ১৯% এবং মিথেনের পরিমাণ ১০০% বেড়েছে। এ পরিসংখ্যান থেকে অনুমিত হয় জলবায়ুর ভয়াবহতা কত মারাত্মক। এছাড়াও উন্নত বিশ্বে কলকারখানাসহ আয়েসি জীবনযাপনে কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। ফলে সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে এবং ক্রমশ পৃথিবী ব্যাপকভাবে উষ্ণ হয়ে পড়েছে। এজন্য জলবায়ুর এক সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকারক প্রভাবের কারণ।

বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে সুন্দরবনে, এমনকি বঙ্গোপসাগরেও। গত কয়েক দশকের ব্যবধানে অনেক প্রাণী আজ বিলুপ্ত। টিকে থাকার লড়াইয়ে জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে।
মানুষের লোভেও বার বার ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এ অরণ্য। বন-বাদাড় কেটে তৈরি হয়েছে মাছের ঘের। জঙ্গল সাফ করে গড়ে উঠছে বসতি। বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে চলছে চাষাবাদ।

অথচ কতবার যে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বনটি দেশকে রক্ষা করেছে; তার কোনো হিসাব নেই। শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের অবদান অপরিসীম।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে লবণাক্ততার সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এবার যুক্ত হয়েছে পানিদূষণ। একইসাথে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে পশুর নদ খনন, বন্যপ্রাণী ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, ভূমিক্ষয় ও ভাঙন, নৌ-যান চলাচল, পর্যটকদের অসচেতনতা, নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অত্যাচার, অবকাঠামো নির্মাণ ও তার পাশেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বনটিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ধীরগতিতে হলেও বাড়ছে পানি ও মাটির দূষণের মাত্রা, দীর্ঘমেয়াদে যা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
কেননা গেল ১০ বছরেই সুন্দরবনে প্রায় সাতগুণ দূষণ বেড়েছে বলে তথ্য মিলেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, শিল্প কারখানা স্থাপন ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের কারণে
সুন্দরবনের গাছপালা, বন্য ও জলজপ্রাণীর ওপর বেশ প্রভাব পড়ছে। বনের বুক চিড়ে বয়ে চলা নদ-নদীর পানি ও মাটিতে দূষণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় আগের মতো আর গাছের চারা গজাচ্ছে না। তাছাড়া পানিতে তেলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজপ্রাণী।

পশুর নদের প্রতি লিটার পানিতে ২০১০ সালের দিকে তেলের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয়গুণ, ৬৮ মিলিগ্রামে। অথচ স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১০ মিলিগ্রাম। সব মিলিয়ে দূষণের কারণে ইউনেস্কো ঘোষিত পৃথিবীর অন্যতম হেরিটেজ সুন্দরবন আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে।’

২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ট্যাঙ্ক ডুবির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে সুন্দরবন। এরপর বনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীতে পটাশ, কয়লা ও ক্লিংকারবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। আবার অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে দীর্ঘদিন ধরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে একটি চক্র। এতে বিভিন্ন মাছের পোনা, কাঁকড়া, সাপ, ডলফিন, শুশকসহ জলজপ্রাণি মারা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে বিষ দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে বাঘ-কুমিরও।

এদিকে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে প্লাস্টিকের দূষণ। পর্যটকরা সাথে করে নিয়ে আসা পানির বোতল, খাবার প্যাকেট, পলিথন, প্লাস্টিকের প্লেট, চায়ের কাপসহ বিভিন্ন বর্জ ফেলে যাচ্ছেন স্পটগুলোতে। আর এসব জোয়ারের পানিতে নদীতে মিশে সমুদ্রেও চলে যাচ্ছে। এছাড়া উচ্চশব্দে গান বাজানো হয় পর্যটকবাহী নৌযানে। বনের মধ্যেও হৈচৈ করতে দেখা যায় অনেক পর্যটককে। এর সবকিছুর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বনের ওপর।
সুন্দরবনের মিঠাপানির প্রবাহের সবচেয়ে বড় উৎস গঙ্গা নদী। সত্তরের দশকে ওই নদীর ওপরে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির এলাকা সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ কমে আসে ও এতে লোনাপানির প্রবাহ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ার ফলে নদীগুলোতে পলি বেড়ে গেছে।

এতে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর বসতি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ধরনের উদ্ভিদ উচ্চ লবণাক্ততা সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ বাড়বে। কয়লা পরিবহনের জন্য নৌপথ চালু রাখতে পশুর নদ খনন করায় সেখানকার ছয় প্রজাতির ডলফিন ও কুমির আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১৯৯৯ সালে বনটির চারপাশের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ বা ইসিএ ঘোষণা করা হয়। আর পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইসিএতে যেকোনো ধরনের কারখানা নিষিদ্ধ।

যেখানে খোদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকেই আদালতে উপস্থাপিত এক নথিতে বলা হয়, সুন্দরবনের আশপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্পকারখানা স্থাপনের বৈধ অনুমতি রয়েছে। প্রকৃত পরিস্থিতি আরো নাজুক। গত আট-দশ বছরেই গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট কারখানা, এলপি গ্যাস প্ল্যান্ট, অয়েল রিফাইনারি, বিটুমিন, সি ফুড প্রসেসিংয়ের মতো বিপজ্জনক কারখানা। আর এগুলোর অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পশুর নদে, যা পরবর্তীতে স্রোতের সাথে চলে যাচ্ছে সুন্দরবনের মধ্যে। তাতে দূষিত হচ্ছে পানি ও মাটি।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ২০১০ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল সুন্দরবনে। সেই প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, এই অঞ্চলের ৭০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রের উপরিভাগের মাত্র কয়েক ফুট ওপরে।

আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়তই, যার জেরে কমে আসছে রয়েল বেঙ্গলের প্রজননক্ষেত্র। একইসাথে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না বাংলার বাঘ। তার ফলে কমছে প্রজনন ক্ষমতাও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১১ ইঞ্চির মতো বৃদ্ধি পেলেই কয়েক দশকের মধ্যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে আসতে পারে ৯৬ শতাংশ।

আরো এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের ফলে বিশ্বের বিপন্নপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণিকুলের প্রায় অর্ধেক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন গণমাধ্যমকে বলেন , ‘জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনে। দূষিত হচ্ছে মাটি ও বাতাস। ক্রমাগত কমছে উপকূলের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত সুন্দরী গাছ। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুলেও।’

এই গবেষক আরো বলেন, ‘সুন্দরী গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় সমুদ্রের ঝড় তাতে বাঁধা পায় ও সেটি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। বিশাল ক্ষতি থেকে রক্ষা পাই আমরা; কিন্তু আশঙ্কাজনকহারে বনের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় মারা যাচ্ছে অনেক সুন্দরী গাছ। নোনা পানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে এ গাছের বীজ। প্রকৃতির বৈরিতায় কমছে উচ্চতাও।’

তবে এখনো সচেতন হলে হয়তো খানিকটা প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচানো সম্ভব; কিন্তু এ সময়টাও চলে গেলে তখন আর বিপদের শেষ থাকবে না।

অন্যদিকে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার একটি বক্তব্যে বলেন , ‘গায়ের জোরে যতই ঢোল পেটানো হোক, দেশকে যা বিপন্ন করে তা কখনোই উন্নয়ন নয়। রামপালসহ মানুষ ও প্রকৃতিবিধ্বংসী প্রকল্পগুলোই তার দৃষ্টান্ত।’ তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গাঁ ঘেষে গড়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান ও রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তনে বিপন্ন মানুষের জীবন । শুধু মানুষ নয় পশু-পাখিসহ সমস্ত জীবকুল এর অপরিময় ক্ষতির দ্বারপ্রান্তে উপনীত। ইতােমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ফলে মাত্রাতিরিক্ত খরা, অতিবৃষ্টি, প্লবন, মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা হ্রাস, পানিতে লবণাক্ততা, সাইক্লোন, সুনামি, জলােচ্ছ্বাস, ভূমিধস, ভূমিকম্প, নদী ভাঙন, রােগ সংক্রমণসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আজ নিত্যসঙ্গী। বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত তথ্য মতে, এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি মানুষ হিমালয়ের হিমবাহ থেকে নির্গত পানির ওপর নির্ভরশীল কিন্তু এসব হিমবাহ অতিদ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। এর ক্ষতিকর প্রভাবে বাংলাদেশে যেমন প্রবল বন্যা কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় পানিতে তলিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ এজন্য যে, এই কৃষিপ্রধান দেশে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব এক্ষেত্রেই মহাসংকটে ফেলবে এছাড়াও সুন্দরবনকে না বাঁচালে বাংলাদেশের গোটা দক্ষিণাঞ্চল একটা দ্বীপে পরিণত হবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। আবহাওয়াবিদরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বনাঞ্চলের ওপর দিয়ে দুই ধরণের ধাক্কা যায়। প্রথমে ক্ষিপ্র গতির বাতাস, এরপর জলোচ্ছ্বাস। জলোচ্ছ্বাস লোকালয়ে পৌঁছানোর আগে সুন্দরবনে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এর ঢেউয়ের উচ্চতা অনেক কমে যায়। সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অপেক্ষাকৃত গতি কমে যায়। পরে সেটা শক্তি হারিয়ে দমকা বাতাসে রূপ নেয়।
২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা এবং সর্বশেষ বুলবুল’কে এভাবেই থামিয়ে দেয় সুন্দরবন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আজ বৃষ্টি হতে পারে

কলকাতা ও তার আশেপাশে আজ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১-এর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অ্যাকুওয়েদার ডট কম...

সাইক্লোনের পর ত্রাণের সাথে সুন্দরবনে ঢুকেছে প্রচুর প্লাস্টিক, সঙ্কটে বাস্তুতন্ত্র

করোনা মহামারি, সাইক্লোনের মতো সমস্যায় এমনিতেই সুন্দরবনের নাজেহাল অবস্থা। তার ওপর সেখানে আবার এক নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাইক্লোন...

১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে সুন্দরবন

সুন্দরবনের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হল পর্যটন। তবে বিগত দু বছরে করোনার জেরে বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে পর্যটন ধাক্কা খেয়েছে। মাঝে খোলা হলেও, করোনার...

সুন্দরবনের অন্যতম স্কুল: বরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠ

ইন্দ্রবরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠের পথ চলা শুরু হয় ১৯৬০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দিকে স্কুলটি মাটির দেওয়াল ও টালির চাল দিয়ে তৈরি...

Recent Comments

error: Content is protected !!