করোনাভাইরাস: পাথরপ্রতিমায় এখন থমথমে পরিবেশ

৯১ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

করোনাভাইরাস বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই মারণ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৬,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। আক্রান্ত প্রায় ৩ লক্ষ। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভারতে এই রোগে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত প্রায় ৫০০। পশ্চিমবঙ্গে আগেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় জানিয়েছেন, বুধবার মধ্যরাত থেকেই গোটা দেশে লকডাউন জারি করা হবে। এটা একপ্রকার কার্ফিউ বলা যায়। এই লকডাউন ২১ দিন ধরে চলবে। উঠবে আগামী ১৪ এপ্রিল। গত রবিবার জনতা কারফিউয়ের থেকেও এই লকডাউন আরও বেশি কঠোর হবে বলেও জানিয়েছেন মোদি। টেলিভিশনের পর্দায় সেই ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে হাত জড়ো করে তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে অনুরোধ, অনুগ্রহ করে ২১ দিন বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না। এই ২১ দিন বাড়িতে না থাকলে, আমাদের ২১ বছর পিছিয়ে পড়তে হবে।

সুন্দরবনে করোনাভাইরাস আতঙ্ক

রাজ্যে এমনিতেই ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হয়েছিল। তার মধ্যে কেন্দ্রের এই ঘোষণার জেরে সেই সময়সীমা আরও বাড়ল। দেশের অন্যান্য অংশের মতো সুন্দরবনেও প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সুন্দরবনের অর্থনীতির মূল ভিত হিসেবে পরিচিত কৃষিকাজ থেকে এখন আর প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে শ্রমিকের কাজ করতে যান। ওই রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বাড়িতে ফিরে আসছেন। বিশেষত যারা কেরলে কাজ করেন, তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে তারা সুন্দরবনে ফিরে এসেছেন। তবে সবাই বাড়িতে ফিরতে পারেননি। যারা কেরল সহ অন্যান্য রাজ্যে আটকে পড়েছেন, তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের পক্ষে এখন সুন্দরবনে ফিরে আসাও সম্ভব নয়। কারণ লকডাউনের কারণে সমস্তরকম গণপরিবহণ ব্যবস্থা আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

পাথরপ্রতিমায় থমথমে পরিবেশ

সুন্দরবনের অন্যান্য অংশের মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমার পাথরপ্রতিমা ব্লকের অনেক বাসিন্দা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যান। তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপের খবর ছড়ানোর পর গত কয়েক সপ্তাহে তাদের অনেকেই বাড়িতে ফিরে এসেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে যারা এখনও বাড়িতে ফিরতে পারেননি, চিন্তায় রয়েছে তাদের পরিবার। লকডাউন ঘোষণা করার ফলে পাথরপ্রতিমায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হয়েছে। পাথরপ্রতিমা বাজারা, হরিমন্দির বাজার, কিশোরীনগর বাজার, খগেন দাসের বাঁধা সহ বিস্তীর্ন এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেকোনো জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাই পাথরপ্রতিমায় এই নিয়ম পালন করা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। বাজার এলাকাতে একাধিকবার তারা টহল দিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

সঙ্কটে মৎসজীবীরা

করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পরই সুন্দরবনের মৎসজীবীরা ব্যাপক সঙ্কটে পড়েছেন। বিশেষত যারা কাঁকড়া এবং চিংড়ি মাছ ধরেন বা এর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। চিনে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর গুজব রটেছিল যে কাঁকড়া, চিংড়ির মতো সামুদ্রিক প্রাণীদের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। যদিও চিকিৎসক বা গবেষকরা এরকম কোনো কথা বলেননি। তবে এই গুজব ছড়ানোর পরই সুন্দরবনের কাঁকড়া নেওয়া বন্ধ করে দেয় চিন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। সেই পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। জলের দরে কাঁকড়া বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মৎসজীবীরা। তবে সর্বক্ষেত্রে ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!