শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০
Home feature গগনচুম্বী বহুতলের পাশের ওই বস্তিতে কখনো গিয়েছেন?

গগনচুম্বী বহুতলের পাশের ওই বস্তিতে কখনো গিয়েছেন?

২৩৩ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

করোনাভাইরাস। এই একটা শব্দই এখন গোটা পৃথিবীতে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে চিনের উহান প্রদেশে যখন প্রথম শোনা গেল এই ভাইরাসে মৃত্যুর খবর, তখন বোধহয় কেউ বিন্দুমাত্র আন্দাজ করতে পারেননি, আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টি করবে এই ভাইরাস।

“আরে মশাই কোথায় উহান আর কোথায় কলকাতা! রাখুন তো এসব করোনা ফরোনা!”

একমাস আগেও যদি আপনি পাড়ার চায়ের দোকানে মাতব্বরদের সামনে করোনাভাইরাস নিয়ে উদবেগ প্রকাশ করতেন, তাহলে আপনাকে এই ধরণের মুখ ঝামটা শুনতে হত। তবে আজ রাজ্যে যে লকডাউনের কথা চলছে, তাতে উহান আর কলকাতার মধ্যে কয়েক হাজার কিলোমিটারের দূরত্বটা ঘুচে গেল। আর এটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বজ্র আঁটুনি আর ফস্কা গেরোটা কোথায়। ভাইরাসটা নভেল বা নতুন। ফলে এর চিকিৎসার নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। কিন্তু সেটা তো কোনো অজুহাত হতে পারে না। ভাইরাস মোকাবিলায় রবিবার, ২২ মার্চ সারা দেশে জনতা কারফিউ পালন করা হয়েছে। ভারতে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন শতাধিক। ইতিমধ্যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ট্রেন, বাস পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সবাইকেই বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। মোটামুটি গোটা দেশই এখন লকডাউনে চলে গিয়েছে।

এটা হয়তো করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। জীবন আগে। বাকি সব পরে। কিন্তু কোনোদিনও শহরের প্রায় প্রতিটি গগনচুম্বী বহুতলের পাশে থাকা বস্তিতে পা রেখেছেন? কলকাতা শহরে এরকম কয়েকশ বস্তি, ঝুপড়ি রয়েছে। ফুটপাতের বাসিন্দাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। তা এই যে শহরের এত বস্তি, সেখানের লোকজনকেও তো খেয়ে, পরে বেঁচে থাকতে হয়। তাদের জীবিকা কি? বাড়ির মহিলারা সাধারণত অন্যের বাড়িতে বাসন মাজেন, রান্নার কাজ করেন। আর পুরুষরা রিক্সা চালান, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি বা শ্রমিকের কাজ করেন। অনেকে আবার পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকান, ঝালমুড়ি দোকান চালান কিংবা ফুচকা বিক্রি করেন। একেবারে দিন আনা দিন খাওয়া সংসার। এদের কাছে একেকটা দিন যুদ্ধের সমান। টানা ন-দশ দিন কাজ না করলে যে কি করে তাদের সংসার চলবে, একমাত্র এই পরিবারে যারা জন্মেছেন, বা বড় হয়েছেন, তারা ছাড়া বাকিদের পক্ষে এই ব্যাপারে কোনো আন্দাজ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হবে।

এই  মানুষগুলো লকডাউনের মানে জানেন না। তবে তারা এটুকু জানেন, আগামী প্রায় দু সপ্তাহ তাদের দুবেলার পেটের ভাত জোগাড় করাটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। বনগাঁ লোকালে প্রত্যেকদিন শয়ে শয়ে যে কাজের লোক এই শহর কলকাতায় পা রাখেন, তাদের চিত্রটাও একই। আসলে পেটের ক্ষিদে তো অতশত বোঝে না। লকডাউন যখন করা হল, তখন এই মানুষগুলোর রোজগারের ব্যাপারে একটা বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। ব্যাপারটা তো এক-দুদিন নয়। প্রায় দু-সপ্তাহের ব্যাপার। আর তার পরেও যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে, সেকথা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। তাই ঢাকঢোল পিটিয়ে জনতা করফিউ পালন করার চেয়ে, এই কঠিন সময় নাগরিকদের সামনে একটা প্রকৃত ওয়েলফেয়ার স্টেট হয়ে ওঠা ভীষণ জরুরি।

লেখকের ব্যক্তিগত মতামত। এর জন্য দৈনিক সুন্দরবন কোনোভাবেই দায়ী নয়।

ছবি সৌজন্যে বিজনেস ইনসাইডার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

মটন বিরিয়ানি থেকে লুচি-ছোলার ডাল, কলকাতার খাবারে মুগ্ধ হয়েছিলেন দিয়েগো মারাদোনা!

শুধু করোনার তাণ্ডবই নয়, নানা কারণে ২০২০ একটি ‘আনলাকি’ বছর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। এমনটাই দাবি অনেকের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে...

তিলোত্তমার জীবনরেখা

মিতুন মণ্ডল দৃশ্য– ১ শহরে সবে শীতের ছোঁয়া। সাত সকালের চাঁদনির ফুটপাত। ধোঁয়া ওঠা চায়ের ভাড়ে...

কনকনে ঠান্ডায় জল কামানের সামনে দাঁড়িয়ে কৃষি আইন বাতিলের দাবি কৃষকদের

উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এর মধ্যেই হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। সেসব উপেক্ষা করে গত রাত থেকেই পাঞ্জাবে হরিয়ানা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জড়ো...

অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত ১ম ওডিআই: ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

এবার অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। নয় মাসের দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নামছে টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার, ২৭...

Recent Comments

error: Content is protected !!