মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০২০
Home feature ক্ষতে বোরোলিন নাকি ব্যান্ড এইড?

ক্ষতে বোরোলিন নাকি ব্যান্ড এইড?

৩১০ Views

সাগ্নিক চৌধুরী

সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন, “বঙ্গ জীবনের অঙ্গ”। কী ভাবছেন, সংস্থার বিজ্ঞাপন করছি। নাহ, সে তো গুরুদেব বিজ্ঞাপন জগতে থাকাকালীনই করে গেছেন। আমি তো শুধুমাত্র মনে করিয়ে দিলাম শীত প্রায় পড়বে পড়বে করছে, এখন আপনার ত্বক ফাটা বা ঠোঁট ফাটা থেকে বাঁচাতে এটি বিশেষভাবে কাজে দেবে। আসলে কী বলুন তো স্যার, আফটার অল বাঙালি তো। তাই গায়ে পড়ে জ্ঞান দেওয়ার সুযোগটা না কিছুতেই মিস করতে পারি না। যেমন ধরুন আজকে রাজ্য জুড়ে যা চলছে সেসব নিয়ে যদি বলতে শুরু করি তাহলে আমাকে তলোয়ারের ভয় আর কুৎসা উভয়ের ভয় নিয়ে থাকতে হবে। কিন্তু একটা কথা অযাচিতের মতন শোনালেও বলতে কিন্তু খুব ইচ্ছে করছে। বলব স্যার? ইয়ে মানে, এই লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসক দলের যে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা হয়েছিল, মানে একদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আর অন্য দিকে কর্পোরেশন কলের মতন ফোর্সে বেরিয়ে যাওয়া নেতা নেত্রী, বৈশাখের সুশোভন দমকা হওয়া আর একই সাথে সেই সব ক্যাডার আর পার্টি ওয়ার্কয়ার যারা গেয়ে উঠেছিলেন “রঙ দে তু মোহে গেরুয়া” সেই অবস্থাও এখন প্রায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আর তার কারণ হিসেবে অনেক বড় বড় মাথারা বলছেন নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যার প্রশান্ত কিশোরের নাম। একই সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু পদক্ষেপ। যেমন ধরুন এনআরসি আর বেসরকারিকরণ যা কিন্তু রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রে অনেকটা বিশল্যকরণীর মতনই কাজ করেছে। অনেক মানুষ কিন্তু আবার আশার আলো দেখে পা বাড়িয়েছেন মাটির’ টানে। আর এই জায়গা থেকে যে প্রশ্ন উঠে আসছে তা হল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি CAB, NRC এবং বেসরকারীকরণ করে তাহলে কি লাভ হবে এই সব বিষয়ে সঠিকভাবে উত্তর দিতে না পারে তাহলে কিন্তু ২১-এর নির্বাচনে আবার প্রভাব ফেলবে। তাতে আখেরে কার লাভ হবে সেটা সময় বলে দেবে। কিন্তু মানুষ প্রশ্ন করবে যে, এই যেখানে অপুষ্টিতে শিশু আর মা –এর মৃত্যু হচ্ছে সেখানে এই সব করে লাভটা কী হচ্ছে? আর যারা এই CAB, NRC এবং বেসরকারীকরণ-এর বিরোধী এবং একই সাথে বাম-কংগ্রেস জোটে ভরসা রাখতে পারছেন না তাদের ভোট যে সবুজ শিবিরে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

এখানে একটা বিষয় জানিয়ে রাখা দরকার। একটি কেন্দ্রীয় দল যখন রাজ্যস্তরের সমস্যাতে মাথা গলাতে শুরু করে, তখন একদিকে যেমন উপর থেকে নিচের দিকে আসছে বলে কিছু সুবিধা যেমন তারা পেয়ে থাকে, যেমন মানুষ আশাবাদী হয় বাইরে থেকে আসছে মানে এরা নতুন কিছু করবে, তেমনই স্থানীয় যেসব সমস্যা থেকে যায় তাতে কিন্তু এনারা তেমন ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করতে পারেন না। তার কারণ যদি আপনি “গরুর দুধে সোনা” পাওয়ার হিসেবে ধরে নেন তাহলে তেমনভাবে বলার কিছু থাকে না। আবারও বলি এই যে নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যারের আগমন কিন্তু এখানে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতেই পারে। যেমন ধরুন, আপনি বলতেই পারেন, এই তো আমাকে বলো, দিদিকে বলো-এগুলো একটা গিমিক কিন্তু এটা কিন্তু খুবই সূক্ষ একটা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেখানে একটা সমস্যা হয়েছে সেটা মেনে নিয়ে তার সমাধান করার জন্য আপনার মতামত সরকারকে জানান-এটা কিন্তু গিমিক নয়। মানে আপনার খুব পেটে ব্যথা করছে এমন সময় সরকারী হাসপাতালে ডাক্তারবাবু এসে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ‘কী হয়েছে বাবু তোমার?’ দেখবেন তাতে যন্ত্রণা কম না হলেও মন থেকে সামান্য হলেও প্রশান্তি আসে। আর এতে যা হয় তা হল এদের অবস্থান আবার মানুষের চোখে সহজে চলে আসবে। আসলে এটা হল ডিজিটালভাবে ফেমাস হওয়ার যুগ। এখানে পায়েসে যে যত বেশি গুড় দেবে তার পায়েস তত বেশি মিষ্টি হবে।

আর এখানে অন্য একটি ফ্যাক্টর হল যে আমি যদি স্টেজে উঠে শুধুমাত্র মিটি মিটি চেয়ে থাকি আর মাপা মাপা কিছু কথা বলি তাহলে কার বাবার সাধ্যি আছে আমাকে ফাঁসাবে। গত কয়েক মাসে রাজ্যে কত ঘটনা একের পর এক ঘটে গেল তা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর মাপা উত্তর। অনেকে তো আবার এই উনি কিছু বলছেন না দেখে হতাশ হয়ে পুরনো বক্তব্যকে টিকটকের মাধ্যমে ভাইরাল করার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু তাতে লাভ যে তেমন কিছু হয়নি তা বলাই বাহুল্য। আসলে যদি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে নেতা-নেত্রীরা কিছু না বলেন তাহলে ঘন্টা খানেকের প্যানেল, আমরা-ওরা থুতু ছেটানো  যদি না হয়, তাহলে টিআরপি আকাশে চড়বে কি করে? এই মৌনতার কারণ যদিও অনেকে প্রশান্ত কিশোরের থিওরি হতে পারে বলে ধরে নিয়েছেন। কিন্তু একটু এসব থেকে বেরিয়ে এসে একটা কথা ভাবুন তো আজকের রাজনীতি এমন একটা পর্যায় এসে গেছে যেখানে কে কতটা প্রলাপ বকছেন এবং কে আগে বকছিলেন এখন আর কেন বকছেন না মানে প্রলাপ, এমন একটা জায়গাতে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা আপনার হাস্যকর লাগলেও বাস্তবটা কিন্তু মোটেই শুভ ইঙ্গিত বহন করছে না।

তাহলে ব্যাপারটা কোথায় দাঁড়াল। সব সমস্যার একটাই ‘সমাধান সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন’। কিন্তু মোদী-মমতা ডুয়েলে একটা তৃতীয় ফ্যাক্টর হিসেবে সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (এআইএমআইএম) এ রাজ্যে পদার্পণ করতে চলেছে। তাতে আর কিছু হোক বা না হোক উভয় শিবির থেকেই ভোট কাটাকুটি হবেই। আর সংখ্যালঘু ভোট রাজ্যে একটা বড় সম্বল তা সবারই জানা রয়েছে। আর সব থেকে বড় কথা হল, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য-সরকার যে ফ্রন্ট-ফুটে এসে চার-ছয় মারার চেষ্টা করবে সেটাই তো স্বাভাবিক। এখানে মোদীর রিভার্স সুইং না ইনসুইং কাজে আসবে তা সময়ই বলে দেবে।

লেখকের নিজস্ব মতামত। এর জন্য দৈনিক সুন্দরবন কোনোভাবেই দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভারতীয় ক্রিকেটের ছত্রে ছত্রে রয়েছে স্বজনপোষণ: রামচন্দ্র গুহ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের প্রাক্তন সদস্য তথা বিখ্যাত ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। নিজের আসন্ন বই ‘The Commonwealth...

বাংলাদেশের সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহসিন-উল হাকিম

বিশ্বজিৎ মান্না পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব নেই। তবুও ভারত হোক বা বাংলাদেশ, উভয় দিকের সুন্দরবনের...

শেষ রক্ষা হল না, চিড়িয়াখানায় মারা গেল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

১৫ বছর বয়সী একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু হল দিল্লির চিড়িয়াখানায়। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এই পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গলের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।...

এখনও পর্যটন মানচিত্রের বাইরে রয়েছে পাথরপ্রতিমা

বিশ্বজিৎ মান্না সুন্দরবন মানেই বাঘ। এই ধারণা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। কিন্তু যারা সুন্দরবনে থাকেন, সুন্দরবনে সারা জীবন কাটিয়েছেন,...

Recent Comments

error: Content is protected !!