মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০
Home country দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ে দলের কিছু নেতার বিতর্কিত মন্তব্যও দায়ী, স্বীকার...

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ে দলের কিছু নেতার বিতর্কিত মন্তব্যও দায়ী, স্বীকার করলেন অমিত শাহ

৩৭৮ Views

পাঁচুগোপাল মান্না

গত বারেও হয়নি। এবারও হল না। দিল্লি দখলের স্বপ্ন গেরুয়া শিবিরের কাছে অধরা থেকে গেল। ফের পাঁচ বছরের অপেক্ষা। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনকে একটা প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত করেছিল। স্রেফ একটা বিধানসভা নির্বাচন হলেও দিল্লির ভোট প্রচারে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিজেপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজধানীতে ভোট প্রচার করে বেড়িয়েছেন। তবে বিজেপির এই হাইভোল্টেজ প্রচারের সামনে আম আদমি পার্টির অতি সাধারণ প্রচার দিল্লির হৃদয় জয় করে নিয়েছে। নির্বাচনের ফলে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। বিপুল ব্যবধানে বিজেপিকে পরাজিত করে ফের ক্ষমতা দখল করল আপ সরকার। আরও একবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অমিত শাহকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি রাজধানীতে দলের পরাজয় নিয়ে মুখ খুললেন। বৃহস্পতিবার অনেকটা ভাঙলেও না মচকানোর সুরে শাহ বলেন, সিএএ বা এনআরসির কারণে দিল্লিতে বিজেপির পরাজয় হয়নি। বরং দলের কিছু নেতার বিতর্কিত মন্তব্য হয়তো ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন বিজেপির এই শীর্ষনেতা।

টাইমস নাও সামিটে শাহ বলেন, সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি নেতাদের ‘গোলি মারো’, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের’ মতো বিতর্কিত মন্তব্য করা উচিত হয়নি। দলের তরফ থেকে তৎক্ষণাৎ এই ধরনের মন্তব্য থেকে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল। পার্টিতে কর্মীদের বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধীরে ধীরে তারা দলের পরিকাঠামোয় উপরের দিকে উঠতে থাকেন। ভোটের প্রচারে সমস্ত স্তরের দলীয় কর্মীরা ময়দানে নামেন। কিছু কিছু কর্মী কিছু মন্তব্য করেন। তবে জনগণ জানেন দলের মধ্যে কোন নেতা বক্তব্য রাখার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত। যদি কোনো কর্মী পার্টি লাইনের বাইরে গিয়ে কিছু বলেন, সে সিনিয়র কর্মী হলেও, সেটা বিজেপির মতামত হতে পারে না।

বিজেপি নেতাদের এই ধরণের মন্তব্যের কারণেই দিল্লিতে পরাজয় স্বীকার করতে হল কি না, এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে শাহ বলেন, হতেও পারে। মানুষ কেন একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট দিয়েছেন, তার কারণ লেখার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং কারণ জানাটা হয়তো কঠিন।

অবশ্য দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অথবা এনআরসির বিরুদ্ধে জনগণের রায় নয় বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। তার ব্যাখ্যা, নির্বাচনের ফলাফলের পিছনে অনেক কারণ থাকে। কোনো একটি বিষয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না।

এদিনও সিএএর সমর্থনে জোরালো মন্তব্য করেন শাহ। এবং যারা এই সংশোধীত আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন, তাদের একহাত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, কেউ আমাকে এখনও পর্যন্ত বলেননি এই ধরণের প্রতিবাদের পিছনে প্রকৃত কারণটা কি। আইনের কোন অনুচ্ছেদ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে? এই আইন কিভাবে মুসলিম বিরোধী বা সংখ্যালঘু বিরোধী? সিএএর মেরিট নিয়ে আলোচনা করা উচিত। আমি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এমনকি আজও আমি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। সিএএ সম্পর্কি বিষয় নিয়ে যারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ইচ্ছুক, তারা আমার অফিসে এসে সময় চাইতে পারেন। তিন দিনের মধ্যেই আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে।

অমিত শাহ ফের একবার জানিয়েছেন, এনআরসির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে জনগণের কাছে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এনপিআর আপডেট প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শাহ বলেন, এই প্রক্রিয়ার সময় কোনো কাগজ দেখানোর প্রয়োজন নেই।

জম্মু-কাশ্মীরের নেতাদের আটক করা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। শাহ বলেন, ওমর আবদুল্লাকে আটক করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের বিবেচনাধীন। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। সেখানে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আইনী প্রক্রিয়াকে তার স্বাভাবিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। বিরোধী কোনো নেতা বা কোনো নাগরিকের কাশ্মীরে যাওয়া নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি সম্প্রতি সেখানে গিয়েছিলেন।

জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করলেও দিল্লি পুলিশের হয়ে জোরালোভাবে সওয়াল করেছেন শাহ। তিনি বলেন, জামিয়ার যে সকল পড়ুয়া একটি বাস পুড়িয়েছিলেন, পুলিশ তাদেরকেই তাড়া করছিল। প্রতিবাদকারীদের সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার কোনো অধিকার নেই। আমি দিল্লি পুলিশের সঙ্গে আছি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা করার দরকার ছিল, তারা সেটাই করেছেন। দিল্লিতে নির্বাচন লড়ার জন্য দলের রণকৌশলের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে শাহ বলেন, আমরা কেবল জয় বা পরাজয়ের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি না। বিজেপি হল এমন একটা দল, যারা নিজেদের মতাদর্শ বিস্তারে বিশ্বাস করে। দু দশক ধরে বিরোধী আসনে বসার পরও আমরা আমাদের মতাদর্শ ত্যাগ করিনি। তখনও আমরা ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরোধীতা করতাম, এখন সেটা বাতিল করে দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অর্ণব গোস্বামী মোটেও ভুল বলছেন না, বলিউডের থেকে গ্রামগঞ্জের যাত্রাপালায় ভালো অভিনয় দেখা যায়

বিশ্বজিৎ মান্না জীবনে এই প্রথমবার অর্ণব গোস্বামীর সাথে একমত না হয়ে পারছি না। তিনি মেলোড্রামা করেন, নিউজ দুনিয়ার হরনাথ...

নেপালী কবির বাংলা কবিতা

রাজা পুনিয়ানী মূলত নেপালী ভাষায় লেখালেখি করেন। কবি হিসেবে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ছাড়াও নেপালে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি...

বনদপ্তরের সাফল্য, কুলতলিতে খাঁচা বন্দী হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল কুলতলির গ্রামে। সোমবার সন্ধ্যা বেলায় মৈপীট কোস্টাল থানার ৬ নম্বর বৈকন্ঠপুর গ্রামে নদী সাঁতরে ঢুকে...

সাত সকালে সুন্দরবনে বাঘ

রফিকুল ঢালী, কুলতলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি মইপিট বৈকন্ঠপুর গ্রামে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাঘ ঢুকে পড়ে। ভীম...

Recent Comments

error: Content is protected !!