শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১
Home Blog

আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আজ বৃষ্টি হতে পারে

0
৮০ Views

কলকাতা ও তার আশেপাশে আজ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১-এর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অ্যাকুওয়েদার ডট কম থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

সাইক্লোনের পর ত্রাণের সাথে সুন্দরবনে ঢুকেছে প্রচুর প্লাস্টিক, সঙ্কটে বাস্তুতন্ত্র

0
২৮৭ Views

করোনা মহামারি, সাইক্লোনের মতো সমস্যায় এমনিতেই সুন্দরবনের নাজেহাল অবস্থা। তার ওপর সেখানে আবার এক নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সাইক্লোন আছড়ে পড়ার পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এনজিওর তরফ থেকে সুন্দরবনে ত্রাণ বিলি করা হয়। আর এখান থেকেই তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা- প্লাস্টিকের দূষণ। সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে নদীবাঁধের ধারে জমা হচ্ছে ভেসে আসা প্লাস্টিকের বোতল। বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এই প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ইকোলজিস্ট দিয়া ব্যানার্জী এই বিষয়টি ২০২১ সালের মে মাসে সুন্দরবনে সাইক্লোন ইয়াস আছড়ে পড়ার পর বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে উল্লেখ করছেন। তিনি বলেন, “গোসাবা, মৌসুনী, বালি, পাথরপ্রতিমা এবং কুলতলীর মতো সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে আমরা অনেক প্লাস্টিক দেখতে পাচ্ছি। এই বিশাল প্লাস্টিকের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দায়ী নন; বহিরাগতদের দৌলতে এলাকায় এই পরিমাণ প্লাস্টিক দেখা যাচ্ছে, যা আগে এখানে ছিল না।” তিনি আরও বলেন যে, সাইক্লোন ইয়াস আছড়ে পড়ার পর একটি এনজিও গোসাবা ব্লকর থেকে প্রায় ৩০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য উদ্ধার করেছে।

সুন্দরবনে এই মুহূর্তে ঠিক কত পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে, তার হিসাব পাওয়া মুশকিল। তবে হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কলকাতা সোসাইটি অব কালচারাল হেরিটেজের তরফে সৌরভ মুখার্জী বলেছেন, শুধুমাত্র গোসাবা ব্লকে প্রায় ৫৬ টন প্লাস্টিক আবর্জনা আছে। তিনি বলেন, “পরিবারগুলি কত পরিমাণ প্যাকেটজাত ত্রাণ পেয়েছেন, কতবার পেয়েছেন, এসবের ভিত্তিতে আমরা এই পরিমাণটি হিসাব করেছি।”

শুধু পরিবেশবিদরাই নন, পুলিশ কর্তারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, বারুইপুর পুলিশ জেলার এডিএসপি অরিজিৎ বসু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রাণ দেওয়ার সময় যে অসংখ্য প্লাস্টিকের জলের বোতল নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেগুলি যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং এনজিওদের কাছে সুন্দরবন থেকে এই প্লাস্টিক আবর্জনা সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন।

হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশিয়ানোগ্রাফিক স্টাডিজের ডিরেক্টর তুহিন ঘোষ বলেন, সুন্দরবনের বাস্তুন্ত্রে এই প্লাস্টিকের আবর্জনা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। অধ্যাপক ঘোষের কথায়, “নোনা জলে প্লাস্টিক মিশে আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এটি সুন্দরবনের ফুড সিস্টেমকে ধীরে ধীরে ক্ষতি করবে।”

সুন্দরবনের বাসিন্দাদের অন্যতম অর্থনৈতিক উৎস হল মাছ ধরা এবং মাছ চাষ। বাস্তুতন্ত্রে কোনও পরিবর্তন হলে তা এই অর্থনৈতিক উৎসের ক্ষতি করবে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে পরিচিত সুন্দরবনের গর্ব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, ডলফিন, কুমীর সহ প্রায় ২,৬২৬ রকমের প্রাণীর অস্তিত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এছাড়া সুন্দরবনে ৪২৮টি প্রজাতির পাখি দেখা যায়। প্লাস্টিকের আবর্জনার কারণে তারাও সঙ্কটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সুন্দরবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে ত্রাণ বিতরণকারী থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সুন্দরবনে এখন যে প্লাস্টিক রয়েছে, তা রিসাইকল করার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাইক্লোনের মতো সমস্যায় এমনিতেই জেরবার সুন্দরবন। তার ওপর প্লাস্টিক দূষণের মতো সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২০ সালের মে মাসে সুন্দরবনে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী সাইক্লোন আম্ফান, যার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। তার আগে ২০১৯ সালের মে মাসে সুন্দরবনে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন ফণী এবং ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে বুলবুল।

প্রত্যেকবার সাইক্লোনের পর সুন্দরবনে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে ত্রাণ দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, সুন্দরবনের কিছু এলাকা অনেক বেশি ত্রাণ পায়, আর কিছু এলাকা ত্রাণ পায় না। যাতে সুন্দরবনের সমস্ত এলাকা সমানভাবে ত্রাণ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের নজর দেওয়া উচিত।

১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে সুন্দরবন

0
১৪২ Views

সুন্দরবনের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হল পর্যটন। তবে বিগত দু বছরে করোনার জেরে বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে পর্যটন ধাক্কা খেয়েছে। মাঝে খোলা হলেও, করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে খুশির খবর হল যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। পর্যটকরা কটকা, কচিখালী ও করমজলসহ বনের পর্যটন স্পটে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলেদের মাছ শিকারসহ বনজ সম্পদ আহরণের পারমিটও দেওয়া হবে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সংবাদমাধ্যমে জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বন বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন খুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা সুন্দরবনের অন্যতম দর্শনীয় স্থান কটকা, কচিখালী, দুবলা, হিরণপয়েন্ট, করমজল, হাড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন। এছাড়া জেলেরা মাছ শিকারের জন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে বনে যেতে পারবেন।
সরকারি এই সিদ্ধান্তে খুশি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন খুলনার সভাপতি এম নাজমুল আযম ডেভিড বলেন, খুলনায় শতাধিক ট্যুর অপারেটর রয়েছে। এরমধ্যে ৬৩টি নথিবদ্ধ। পর্যটনের সাথে জড়িত রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সুন্দরবনে প্রবেশে এতদিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুন্দরবনের অন্যতম স্কুল: বরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠ

0
বরদাপুর মিলন বিদ্যাপীঠ। ছবি তুলেছেন ইন্দ্র।
১৬৯ Views

ইন্দ্র
বরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠের পথ চলা শুরু হয় ১৯৬০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দিকে স্কুলটি মাটির দেওয়াল ও টালির চাল দিয়ে তৈরি হয়। পরে এটির উন্নত হয়। এখন এক বিশাল তিনতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে। সঙ্গে খুব বড় একটি হোস্টেল রয়েছে। চারিদিকে উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। শুরুতে স্কুলটি তেমন পরিচিত ছিল না। পরে এলাকাজুড়ে সুপরিচিত লাভ করে। এখন শুধু এলাকাতেই নয়, সুন্দরবনের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে বরদাপুর আদর্শ মিলন বিদ্যাপীঠ। প্রথম থেকেই এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হচ্ছে। শুরুতে ৩০০ থেকে ৪০০ সংখ্যক ছেলে-মেয়ে নিয়ে পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০০ কাছাকাছি।

স্কুলটিতে ২০-টিরও বেশি ক্লাসরুম আছে। এছাড়া একটি কেজি স্কুল রয়েছে। ৩৩জন শিক্ষকসহ বসার বিশাল কক্ষ, অফিস রুম আছে। এমনকি অডিটোরিয়াম রয়েছে যেখানে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়। পড়ুয়াদেরকে বিজ্ঞান বিষয় জানার জন্য জীব বিজ্ঞান গবেষণাগার, কেমিস্ট্রি ল্যাব, লাইব্রেরি, কম্পিউটার আছে। এসব কিছু বাদে খেলাধুলাতে স্কুলের খুব নামডাক আছে। প্রতিবছর স্কুলের স্পোর্টসে আয়োজন হয়ে থাকে। নানা স্কুল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যোগদান করে। অনেক বিদ্যালয়কে হারিয়ে এই স্কুল অনেক বার বিজয় লাভ করেছে। এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত সুন্দরবন অঞ্চলের পাথরপ্রতিমা বাজার এলাকা থেকে কিছুটা দূরে। পাথর প্রতিমা থেকে ২০ মিনিট অটোতে চাপলে ভগবতপুর। রাস্তার পাশে স্কুলটি অবস্থিত। সুন্দরবনের বিখ্যাত কুমীর প্রকল্প এই স্কুলের কাছে রয়েছে।

সুন্দরবন বাঁচাতে আরও বেশি ম্যানগ্রোভ চাই

0
ম্যানগ্রোভ- ছবি সৌজন্যে পিক্সাবে
১৬৫ Views

সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলি সাইক্লোনের মুখোমুখি হয়েছে সুন্দরবন। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উল্লেখযোগ্যগুলি হল ইয়াস, অম্ফান, বুলবুল এবং আয়লা। এগুলি সুপার সাইক্লোন নামেও পরিচিত। এই সাইক্লোনগুলির ফলে সুন্দরবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন।

সুন্দরবনে সাইক্লোন কোনও নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বহুবার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা গেছে। তবে গত কয়েক বছরে সাইক্লোনের সংখ্যা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হল জলবায়ু পরিবর্তন। শুধু সুন্দরবনই নয়, বিশ্বের সমস্ত উপকূলবর্তী অঞ্চল, যার উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে কম, সেখানেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের কিছু বদ্বীপ এর মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে জলের তলায়। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই আশঙ্কাবার্তা শুনিয়েছেন। তাদের অনুমান, বর্তমান হারে সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে থাকলে, কয়েক দশকের মধ্যে সুন্দরবনের কিছু দ্বীপ সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে যেতে পারে। তাতে যে শুধু মানুষই সমস্যায় পড়বে তা নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের গর্ব, তারাও চরম সঙ্কটে রয়েছে। এই বিপদ থেকে বাঁচার উপায় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের হাত থেকে বাঁচাতে পারে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। সাইক্লোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে প্রাচীরের মতো ভূমিকা পালন করে ম্যানগ্রোভ। নোনা জলেও এই গাছের বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে, সুন্দরবনজুড়ে ম্যানগ্রোভের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

সুন্দরবনের মতো বিশ্বের অনেক উপকূলবর্তী এলাকাতেও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট দেখা যায়। যেমন ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে রয়েছে ম্যানগ্রোভ। তবে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য রয়েছে সুন্দরবনে, যার ৬০ শতাংশ রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি ৪০ শতাংশ রয়েছে ভারতে। সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সুন্দরবনে এখন ৯৬টি বাঘ আছে।

সুন্দরবনে অরণ্য সংরক্ষণের উদ্যোগের ইতিহাস বেশ পুরানো। মুঘল আমল (১৫২৬-১৭৬৫) থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের (১৭৬৫-১৯৪৭) সময় পর্যন্তও এর নিদর্শন রয়েছে। সুন্দরবনে এক সময় ম্যানগ্রোভের অভাব ছিল না। তবে সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বসতি স্থাপনের প্রয়োজন হয়। আর তার জেরেই প্রথম কোপ পড়ে ম্যানগ্রোভে। শুধু তাই নয়, কৃষিকাজের প্রয়োজনেও ম্যানগ্রোভ নিধন হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সুন্দরবনের এই মূল্যবান ম্যানগ্রোফ ফরেস্ট বাঁচাতে নানা আইন তৈরি করা হয়েছে। ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে সুন্দরবনকে টাইগার রিজার্ভের তকমা দেওয়া হয়। সুন্দরবনের ১,৭০০ বর্গ কিলোমিটার কোর এরিয়াকে ১৯৮৪ সালের ৪ মে তারিখে ন্যাশনাল পার্ক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৮৭ সালে সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে সুন্দরবনকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের তকমা দেওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে। ২০১৯ সালে সুন্দরবন হয়ে ওঠে ভারতের বৃহত্তম ওয়েটল্যান্ড সাইট।

১৯০৩ সাল নাগাদ গোসাবা কোঅপারেটিভ মডেল তৈরি করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিসার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টন। ঔপনিবেশিক আমল থেকে সুন্দরবনে মানুষের বাসস্থান তৈরির কাজ গতি পায়। তখন থেকে ম্যানগ্রোভ নিধনের কাজ ধীরে ধীরে শুরু হয়। সুন্দরবনের ১০২টি দ্বীপের মধ্যে বর্তমানে ৫৪টি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে। দ্বীপগুলিতে এখনও ম্যানগ্রোভ রয়েছে, তবে আগের চেয়ে ঘনত্ব কমেছে। ম্যানগ্রোভ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের এই দ্বীপগুলি আরও বন্যা প্রবণ হয়ে পড়েছে। আয়লা বা আম্ফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মারাত্মক হয়েছে। ম্যানগ্রোভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের নদীবাঁধের মাটি আলগা হয়েছে। নদীবাঁধ দুর্বল হয়েছে। ভাঙনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিক্ষয় বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সাইক্লোনগুলিতে সুন্দরবনের এই দুর্বল নদীবাঁধাগুলি ছাপিয়ে লোকালয়ে জল ঢুকেছে। কোনও কোনও মহল থেকে কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরির দাবি উঠছে। তবে সেটা বাস্তবায়িত করা কঠিন। প্রথমত, কংক্রিটের নদীবাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া এটি কোনও স্থায়ী সমাধান হবে বলে জোর দিয়ে বলা যায় না। কংক্রিটের নদীবাঁধ পরিবেশ বান্ধব কোনও সমাধান হতে পারে না। কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করা হলেও তা ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ করতে পারবে না। কংক্রিটের নদীবাঁধের নিচে থাকা মাটি ক্ষয়ে গেলে সেই বাঁধ আর মজবুত থাকবে না। সুন্দরবনের নদীর জলে ভেসে বেড়ানো ম্যানগ্রোভের বীজ কংক্রিটের বাঁধের গায়ে শিকড় প্রবেশ করাতে পারবে না। তাই ম্যানগ্রোভ গড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের পরিমাণ বাড়ানো। একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে, প্রতি ১০০ বর্গ মিটারে ৩০টি ম্যানগ্রোভ থাকলে তা সুনামির ঢেউ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে। ২০১৯ সালে সুন্দরবনে যখন সাইক্লোন বুলবুল আছড়ে পড়েছিল, তখন ম্যানগ্রোভের সৌজন্যে হাওয়ার গতি হ্রাস পেয়ে হয়েছিল ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার। শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, ম্যানগ্রোভের সাথে সুন্দরবনের অর্থনীতি জড়িয়ে আছে। ম্যানগ্রোভের পরিমাণ বাড়লে মাছ ধরার পরিমাণ বাড়বে। কারণ ম্যানগ্রোভের শিকড় অনেক মাছের ব্রিডিং গ্রাউন্ড হয়ে ওঠে। সেখানে অনেক মাছও ধরা যায়। কাঁকড়া এবং চিংড়ি ম্যানগ্রোভের শিকড়ের আশেপাশেই সাধারণত থাকে। সামগ্রিকভাবে, সুন্দরবনের সুরক্ষা থেকে অর্থনীতি, সবেতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং এর ঘনত্ব বৃদ্ধির কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুন্দরবন রক্ষা পাবে। শুধু সুন্দরবন নয়, রক্ষা পাবে আশেপাশে থাকা কলকাতার মতো শহরাঞ্চল, যাদের ওপর ঝড়ের প্রথম ইমপ্যাক্ট পড়ে না সুন্দরবনের জন্য।

বাঘের আক্রমণে মৎসজীবীর মৃত্যু

0
১৫৫ Views

ফের বাঘের আক্রমণে এক মৎসজীবীর মৃত্যু হল সুন্দরবনে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সুন্দরবনের ঝিলা-১ এরিয়াতে ওই মৎসজীবী যখন মাছ ধরছিলেন, তখন তাকে আক্রমণ করে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম আন্না দাস। বয়স ৫০। মাছের খোঁজে ভ্যাসেলে ঝাঁপ দেয় পূর্ণবয়স্ক ওই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাকিরা তখন বাঘটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনও কাজ হয়নি। আন্নার ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেয় বাঘটি। আর তাতেই প্রাণ হারাতে হয় আন্নাকে। বসিরহাট জেলা হাসপাতালে তার দেহ অটোপসির জন্য পাঠানো হয়। এই নিয়ে বিগত ১৪ মাসে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কুমীরের আক্রমণে আহত রাক্ষসখালীর যুবক

0
কুমীরের আক্রমণে আহত যুবক সৌমিত্র মাইতি।
২৫৬ Views

কুমীরের আক্রমণে গুরুতর আহত রাক্ষসখালীর এক যুবক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নদীতে মাছ ধরার সময় এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম সৌমিত্র মাইতি। বাবার নাম শঙ্কর মাইতি। তিনি পাথরপ্রতিমা ব্লকের রাক্ষসখালীর বাসিন্দা। ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয়রা ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

আফগানিস্তানে খতম ২৬২ তালিবান, দেশজুড়ে কার্ফিউ

0
কাবুলের আকাশে মার্কিন বোমারু বিমান।
২৩৭ Views

গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানে মোট ২৬২ জন তালিবান জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই খবর জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর হামলায় জখম হয়েছে ১৭৬ জন জঙ্গি। এই সমগ্র অভিযানে মোট ২১টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি ট্যুইটে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় লঘমান, নানগরহর, নুরিস্তান, কানুর, গাজনি, পাকটিয়া, কান্দাহার, হেরাত, বলখ, জোযান, হেলমন্ড, কুন্দুজ এবং কাপসিয়া প্রভিন্সে অভিযানে ২৬২ জন তালিবান জঙ্গিকে মারা হয়েছে এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছে।এছাড়া ২১টি আইইডি পাওয়া গিয়েছে, যা নিষ্ক্রিয় করা হয়।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গোটা দেশে নিরাপত্তা অভিযান চলছে। যেসব এলাকায় তালিবান ঘাঁটি আছে, সেখানে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে তালিবানরা যাতে শহরে ঢুকতে না পারে তার জন্য শনিবার থেকে প্রায় সমগ্র আফগানিস্তানে কার্ফিউ জারি করা হয়েছে। কাবুল এবং দুটি প্রভিন্স বাদে গোটা থেকে রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত লোকজনকে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকেই তালিবান জঙ্গিরা ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে আফগান বাহিনী এবং তালিবানের মধ্যে লড়াই হয়েছে। মার্কিন সেনার অধিকাংশই আফগানিস্তান ছাড়লেও প্রায় ৬৫০ মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকবে। তারা মূলত কূটনীতিকদের সুরক্ষা দেবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাবুল বিমানবন্দরে কয়েকশ বাড়তি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা থাকবে। তুরস্কের সেনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নেওয়ার আগে তাদের সাহায্য করবে মার্কিন সেনা।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ডেবিউ করতে পারেন বরুণ চক্রবর্তী

0
বরুণ চক্রবর্তী
২০৪ Views

আপাতত ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা সহ টিম ইন্ডিয়ার সিনিয়র খেলোয়াড়রা সেই স্কোয়াডে রয়েছেন। তাই শ্রীলঙ্কা সফরে মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন, অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাঠানো হয়েছে। এই দলের কোচ হয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়। প্রাথমিক পরীক্ষায় এই নতুন দল উতরেও গিয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে ওডিআই সিরিজে ২-১ মার্জিনে হারিয়ে দিয়েছেন ভারতের তরুণ তুর্কিরা। এবার ২৫ জুলাই কলম্বোতে শুরু হতে চলেছে দুই দেশের টি-২০ সিরিজ। তার আগে ভারতীয় শিবিরে দল বাছাই একটা বড় সমস্যা হতে পারে। কারণ কোন প্লেয়ারকে বাদ দিয়ে কোন প্লেয়ারকে নেওয়া হবে, নির্বাচক বা ম্যানেজমেন্টের কাছে সেটাই মাথা ব্যথার কারণ হতে চলেছে। তবে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন টি-২০ সিরিজে ডেবিউ করতে পারেন স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে জিতেই সিরিজ পকেটে পুরে নেয় ভারত। নিয়ম রক্ষার তৃতীয় ম্যাচে ভারতীয় দল পরীক্ষানীরিক্ষা চালায়। তৃতীয় ওডিআই ম্যাচে ভারত হেরে যায়। এই ম্যাচে যে পাঁচজন ডেবিউ করেন তারা হলেন নীতীশ রাণা, সঞ্জু স্যামসন, কৃষ্ণপদ গৌতম, চেতন সাকারিয়া এবং রাহুল চাহার। তবে বরুণ সুযোগ পাননি। ২০২০ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতী গলে ডাক পেয়েছিলেন বরুণ। তবে চোটের কারণে তিনি ম্যাচে সুযোগ পাননি।

আইপিএলের কয়েকটি মরসুমে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরমেন্সের পর অবশেষে ভারতীয় টি-২০ দলের হয়ে ডেবিউ করতে চলেছেন বরুণ। ২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের আগে দল গোছানোর কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে ভারত।

কমছে কোভিড, সোমবার থেকে দিল্লিতে ১০০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে চলবে মেট্রো

0
দিল্লি মেট্রো- ফাইলচিত্র
২০২ Views

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। খুলে যাচ্ছে দোকানপাট, সিনেমা হল। শনিবার দিল্লি সরকারের একটি অর্ডার থেকে জানা গিয়েছে, এবার দেশের রাজধানীতে ৫০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে খুলতে পারে সিনেমা হল, থিয়েটার এবং মাল্টিপ্লেক্স। এছাড়া সোমবার, ২৬ জুলাই থেকে দিল্লি মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ মাত্রায় পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে চলবে দিল্লি মেট্রো। দিল্লি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ডিডিএমএ) একটি অর্ডারে এমন খবর জানিয়েছে।

শুধু মেট্রো বা সিনেমা হলই নয়, আন্ত রাজ্য বাস পরিষেবাতেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। ১০০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ইন্ট্রা-স্টেট বাস সার্ভিসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদেরকে রিয়ার ডোর দিয়ে বাসে উঠতে হবে এবং ফ্রন্ট ডোর দিয়ে নামতে হবে। এছাড়া বাসে কোনও যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ যে কয়েকটা সিট থাকবে, ঠিক ততজন যাত্রীই নেওয়া যাবে।

বিয়ে বাড়িতে উপস্থিতির সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। কোভিড প্রোটোকল মেনে স্পা খোলার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। অডিটোরিয়াম, অ্যাসেম্বলি হল ৫০ শতাংশ সিটিং ক্যাপাসিটি নিয়ে খুলতে পারে। দিল্লিতে কোভিড সংক্রমণের হার অনেকটাই হ্রাস পয়েছে। শুক্রবার ২৩ জুলাই দিল্লিতে কোভিডে ৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। পজিটিভিটি রেট ০.০৯ শতাংশ।

error: Content is protected !!