রবিবার, জুন ২০, ২০২১
Home District “সম্পদ বলতে ছিল একটা কুঁড়ে ঘর, সেটাও এখন নেই”

“সম্পদ বলতে ছিল একটা কুঁড়ে ঘর, সেটাও এখন নেই”

৩৪৯ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

একদিকে করোনার জেরে চলছে লকডাউন। তার মধ্যেই আছড়ে পড়ল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। গত ১০০ বছরে বাংলায় আছড়ে পড়া এই শক্তিশালী ঝড়ে সুন্দরবনের শোচনীয় অবস্থা। সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের ছবি। গোসাবা এলাকার চিত্র সেটাই প্রমাণ করেছে।

“এখন আমি একজন ভিক্ষারি হয়ে গিয়েছি। আমার সম্পদ বলতে ছিল একটা কুঁড়ে ঘর। ঈশ্বর সেটা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন।” কথাগুলি বলছিলেন ৬৩ বছর বয়সী সাবিত্রী মৃধা। সুন্দরবনের পখিরালয় গ্রামের বাসিন্দা। বিদ্যাধরী নদীর গ্রাসে তিনি নয় বিঘা পৈতৃকি জমি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের যা ছিল, সব এই নদী কেড়ে নিয়েছে। এবার এই ঝড়টা আমাদের একদম শেষ করে দিল।”

গত সপ্তাহে সুপার সাইক্লোনে সুন্দরবনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম হল গোসাবা ব্লক। লেখক অমিতাভ ঘোষ তার উপন্যাস হাঙ্গরি টাইডে লিখেছেন, “অচেনা ব্যক্তিকে এখানে আকর্ষণ করার মতো কিছু নেই। তবুও এই ব্রহ্মাণ্ড এই ব দ্বীপগুলিকে সুন্দরবন নামেই চেনে- যার অর্থ সুন্দর জঙ্গল।” সৌন্দর্যের কথা ভুলে যান, আম্ফানের ফলে সুন্দরবনকে এখন চেনা যাচ্ছেই না। চারিদিকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাণ্ডবের চিত্র।

নদীর পেটে চলে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা জমি

গোসাবা বাজার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাঙ্গাবেলিয়া। এখানেই আম্ফান সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। স্পষ্টতই তাই ঘটেছে। এলাকার নদীবাঁধ যেন কুরে কুরে খেয়ে নিচ্ছে হিংস্র নদী। চারিদিকে পড়ে রয়েছে গাছের কাণ্ড। সেগুলি পরিষ্কার করার কাজ চলছে। তার পাশাপাশি বালির বস্তা ফেলে নদীবাঁধকে যতটা মজবুত করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। রাঙ্গাবেলিয়ার উত্তর পাড়ায় শয়ে শয়ে বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। তিন বিঘা জমি হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা অনন্ত মণ্ডল। তিনি বর্তমানে পরিবারকে নিয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে বসবাস করছেন। অনন্তবাবু বলেন, জানি না আমরা কি করেছি। কেন প্রকৃতি আমাদের শাস্তি দিচ্ছে।

গত ২০ মে দুপুরে অনন্ত এবং তার পরিবার ওই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি তার একটি বাছুরকে বাঁচাতে পারেননি। ঝড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমি অনেক ঝড় দেখেছি। অনেক বন্যা দেখেছি। ছোটোবেলা থেকেই দেখছি। তবে জীবনে এরকম ঝড় আমি দেখিনি। এক সময় মনে হচ্ছিল, আমরা সবাই মারা যাবো।”

তথ্যসূত্র এবং ছবি দ্য অয়্যার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আমার স্কুল: পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়

ইন্দ্রস্কুল প্রায় সবারই কাছেই প্রিয়। স্কুল এমনই একটি জায়গা যেখানে জীবনের শুরুর দিকে একটা বড় অংশ আমরা কাটাই, অনেক নতুন বন্ধু তৈরি...

ঘোড়ামারা: অভিশাপ না প্রশাসনিক অবহেলা? ক্ষয়িষ্ণু দ্বীপে ভাসমান কিছু প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন লিখেছেন প্রত্যয় চৌধুরীজমি নেই, ঘর নেই, বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল! প্রকৃতি যে এরকম নিষ্ঠুর হতে পারে, তা...

নরহরিপুরে ত্রাণ বিলি

দুই সপ্তাহ হতে চলল, এখনও ইয়াস বিধ্বস্ত সমস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও বিতরণ করা...

ইয়াস: ক্ষতিগ্রস্ত ঘোড়ামারা, পাথরপ্রতিমা বাজারেও ঢুকেছে জল

আম্ফানের পরেই একটি বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী হল সুন্দরবন। গত বছরের আম্ফানের মতো এবারও সাইক্লোন ইয়াসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুন্দরবনের...

Recent Comments

error: Content is protected !!