সোমবার, মে ১৭, ২০২১
Home Lifestyle ফ্রায়েড চিকেন আর পিৎজার যুগেও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি হরিদাস মোদক

ফ্রায়েড চিকেন আর পিৎজার যুগেও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি হরিদাস মোদক

৩৬৮ Views

বিশ্বজিৎ মান্না

আজ যা আছে, কাল হয়তো থাকবে না! বা বদলে যাবে। এটাই নিয়ম। ঠিক যেমন আমাদের প্রিয় শহর কলকাতা। এক সময় গ্রাম ছিল। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগের কথা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা করার জন্য এই বাংলার মাটিতে পা দেওয়ার আগে কলকাতা ছিল একটি আস্ত গ্রাম। ঘোড়ায় টানা গাড়ি, কাঁচা রাস্তার সাথে আজকের ক্যাব সার্ভিস আর অ্যাসফল্ট রোডের কোনো মিলই পাওয়া যায় না!

সময়ের সাথে সাথে কলকাতা বদলেছে। সেই সাথে বদলে গিয়েছে তার বাহ্যিক রূপ। তবে এই এতগুলো বছরে যেটা বদলায়নি, সেটা হল খাবারের প্রতি বাঙালির প্যাশন! ধর্ম নয়, বাঙালি খাবারে আছে। ইলিশ-চিংড়ি নিয়ে ঘটি-বাঙালের লড়াই বোধহয় পৃথিবীর আর কোনো কমিউনিটিতে দেখা যায় না। কলকাতা আজ কজমোপলিটান সিটি। পাড়ার কচুরির দোকান যেমন আছে, তেমনি গজিয়ে উঠেছে পিৎজা, বার্গারের আউটলেট। বাঙালি এই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলেছে। তবে সেই ট্রাডিশনাল খাবারের প্রতি তার দুর্বলতা কমেনি! কমবে কী করে। এ তো নাড়ির টান!

একটা সময় যেকোনো বাঙালি বাড়িতে ব্রেকফাস্ট মানেই কচুরি, তরকারি। কখনো আবার লুচির জায়গায় রুটি। রোববার হলে আলুর দম মাস্ট। এখন সে চিত্র অনেকটাই অন্যরকম। ডায়েট কনশাস বাঙালির ব্রেকফাস্টে ঢুকে গিয়েছে ওটস, ব্রাউন ব্রেডে। কিংবা নিদেন পক্ষে ব্রেড, জ্যাম। আসলে হাতে সময় যে কম! অফিস, তারপর সেখান থেকে বাড়ি, সোশ্যাল লাইফ। সব মিলিয়ে জীবন এখন অনেক ফাস্ট। কোনো নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে তাই রোজ রোজ বাইরে থেকে কচুরি আনা বা বাড়িতে কচুরি বানানো সম্ভব নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় এই ট্রাডিশনাল খাবারের প্রতি বাঙালির আবেগ কমে গিয়েছে! সেটা প্রমাণ করে শ্যামবাজার চত্ত্বরের আদি হরিদাস মোদক। প্রায় ২৫০ বছর পুরানো এই দোকান কচুরি, আলুর তরকারির মতো ট্রাডিশনাল ব্রেকফাস্টের জন্য বিখ্যাত। এপিসি রায় রোডে অবস্থিত এই দোকানে কচুরি, তরকারি দেওয়া হয় কলাপাতায়। সেই সাথে এই দোকানে পাওয়া যায় হরেক রকমের মিষ্টি।

কলকাতায় অনেক বিখ্যাত কচুরির দোকান রয়েছে। তার মধ্যে হরিদাস মোদক কেন স্বতন্ত্র? কলাপাতায় ট্রাডিশনাল উপায়ে সার্ভ করার একটা আকর্ষণ তো রয়েছেই। সেই সাথে এই দোকানের কচুরিতে এমন দুটি উপাদান থাকে, যা এর স্বাদকে অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। হরিদাস মোদকের কচুরিতে বিউলির ডাল আর হিং থাকে। এই ডেডলি কম্বিনেশন আর কোথাও খুব একটা পাওয়া যায় না। শীতকালে এখানে কড়াইশুঁটির কচুরিও পাওয়া যায়। সেই সাথে পাওয়া যায় কালাকাঁদ, জিভে গজা, ছানার জিলিপি, কালোজামের মতো অনেক মিষ্টি। এছাড়া হরিদাস মোদকে পাওয়া যায় সিঙাড়া।

হরিদাস মোদকের পরিবার বংশপরম্পরায় এই দোকানের সুনাম বজায় রেখেছে। এই দোকানের বর্তমান মালিক ইন্দ্রজিৎ মোদক। দোকানের খাবার এতটাই জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু যে শ্রী রামকৃষ্ণ, রাণী রাসমণী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং রাজা রামমোহন রায়ের মতো দিকপাল ব্যক্তিরাও এই দোকানে এসেছিলেন। ফ্রায়েড চিকেন আর বার্গারের যুগে তাই এখনও নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি হরিদাস মোদক। Be A Food Day চ্যানেলের অর্ণব এবং গৌরব সম্প্রতি তারই হাল হকিকত জানতে গিয়েছিল এই দোকানে। আপনি যদি খাদ্য রসিক হন, তাহলে এখনই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ফের মৃত্যু

শাহীন বিল্লা, সাতক্ষীরাসুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে রেজাউল ইসলাম নামে এক মৌয়াল নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ মে) বিকেলে বাংলাদেশের পশ্চিম...

দৈনিক সুন্দরবনের সাংবাদিককে মারধর

দৈনিক সুন্দরবন ওয়েবসাইটের এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠল কুলতলিতে। কোভিড বিধি না মেনে শুক্রবার কুলতলীর রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে জেটিঘাটে অনেকে ভিড়...

বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে: মোদিকে চিঠি বিরোধীদের

ভারতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। হাসপাতালো রুগীর জায়গা নেই। অক্সিজেনের অভাব। ভ্যাকসিনের অভাব। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।...

অতিমারির অন্ধকারে ঈদে চাঁদ যেন আশার আলো

সীতাংশু ভৌমিক, ফরিদপুর (বাংলাদেশ) প্রতিবছর ঈদ আসে, পরিযায়ী শ্রমিক-কর্মজীবী মানুষেরা স্বজনদের কাছে ফিরে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকেই...

Recent Comments

error: Content is protected !!