শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০
Home country দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জয়ী হওয়ার সাতটি কারণ

দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জয়ী হওয়ার সাতটি কারণ

৩৫৬ Views

পাঁচুগোপাল মান্না

হ্যাটট্রিক করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সমস্ত হিসেবকে চুরমার করে দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন অরবিন্দর কেজরিওয়াল। এই নিয়ে পর পর তিনবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হবেন কেজরিওয়াল।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন স্রেফ একটা নির্বাচন ছিল না। এর মধ্যে জড়িয়েছিল বিজেপির সম্মান। কেন্দ্রের শাসকদলের কাছে দিল্লি দখল ছিল একটি প্রেস্টিজ ফাইট, যার নেতৃত্বে ছিলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহিনবাগ ইস্যু এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গেরুয়া শিবিরের কাছে অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠে। শাহের দাবি ছিল, এই নির্বাচন হতে চলেছে শাহিনবাগ বনাম অবশিষ্টদের লড়াই। দিল্লি বিজেপির নেতা তথা সাংসদ মনোজ তিওয়ারি দলের জয় নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে মঙ্গলবার ঘোষিত ফলাফল তাদের সেইসব হিসেবকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে।

বিজেপি তাদের ভোট প্রচারে  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মতো বিষয়কে হাতিয়ার করলেও এসবের ধার দিয়ে হাঁটেননি আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বরং তিনি ভোট প্রচারে বলেছিলেন, তার সরকার গত পাঁচ বছরে কি কাজ করেছে। ভোটে জিতলে দিল্লির জন্য আপ সরকার কি করতে চায় সে সম্পর্কেও আগাম আভাস দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। এই লড়াইকে তিনি দিল্লির ভোটার বনাম বিজেপির লড়াই বলে তকমা দিয়েছিলেন।

বেসরকারি স্কুলের ফিয়ে লাগাম

আপের জয়ে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে শিক্ষা ক্ষেত্রে কেজরিওয়াল সরকারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। দিল্লিতে অসংখ্য পরিবারের স্কুল পড়ুয়া শিশু রয়েছে। তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল আপ সরকার। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বেসরকারি স্কুলের লাগাম ছাড়া ফি একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আপ সরকার গত পাঁচ বছরে ২০০-এরও অধিক বেসরকারি স্কুলকে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি করতে দেয়নি। এই নিয়ে আপ সরকারের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামে ওই স্কুলগুলি। তারা এই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। গত বছরের মার্চে কেজরিওয়াল সরকারের স্কুলে ফি বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে জারি করা সংশ্লিষ্ট সার্কুলার বাতিল করে দিয়েছিল আদালত। দিল্লি সরকার আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে। যদিও আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ কেজরিওয়াল সরকারের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। গত ১৯ জানুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরলে গত পাঁচ বছরের মতো আগামী দিনেও বেসরকারি স্কুলের অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধিতে লাগাম দেওয়া হবে। হিন্দিতে পোস্ট করা একটি ট্যুইটে তিনি বলেন, যতদিন দিল্লিতে একটি সৎ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, ততদিন বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের স্কুল ফি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। দিল্লির কোনো বেসরকারি স্কুলকে অন্যায্যভাবে ফি বৃদ্ধি করতে দেওয়া হবে না। গত পাঁচ বছরের মতো আগামীতেও এই প্রচেষ্টা জারি থাকবে।

দিল্লি সরকার এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে এক চুল সরতেও রাজি ছিল না। যেসমস্ত স্কুল এই অতিরিক্ত ফি আরোপ করেছিল, তাদের সেই অতিরিক্ত টাকা সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার অভিভাবকদের ফেরৎ দিতে বাধ্য করে দিল্লির সরকার। স্কুলগুলি এই নিয়ম মেনে চলছে কি না, তার উপরেও কড়া নজর রাখা হয়েছিল।

সরকারি স্কুলের উন্নয়ন

দিল্লিতে সরকারি স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল, স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে মত বিনিময় ইত্যাদি। দিল্লির শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাণ্ডারি হিসেবে ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মণিশ সিসোদিয়া। কেজরিওয়াল বলেছিলেন, আমরা নিশ্চিত করেছিলাম যে সরকারি স্কুলগুলি অন্তত বেসরকারি স্কুলগুলির তুলনায় উন্নততর না হলেও যেন ভালো হয়। গত সাড়ে তিন বছরে দিল্লির বার্ষিক বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, তার থেকে এই বাজেট বরাদ্দ তিনগুণ বেশি। এই তহবিলের সাহায্যে আমাদের স্কুলগুলিতে আজ রয়েছে বিশ্ব মানের স্মার্ট ক্লাস, সুইমিং পিল, ক্লাসরুম লাইব্রেরি, আধুনিক ডেস্ক এবং উন্নততর লাইব্রেরি।

এর পাশাপাশি কেজরিওয়াল দাবি করেন, দিল্লিতে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে বেসরকারি স্কুল থেকে নিয়ে এসে সরকারি স্কুলে ভরতি করাচ্ছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনআইই সিঙ্গাপুর সহ বিশ্বের একাধিক সম্মানজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক এবং স্কুল নেতৃত্বকে শেখার সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল।

অন্যদিকে সিসোদিয়া বলেছিলেন, দিল্লিতে ১২ শ্রেণীর পরীক্ষায় সিবিএসইকে ছাপিয়ে গিয়েছে দিল্লির সরকারি স্কুলগুলি। নির্বাচনী ইস্তাহারে আপ দাবি করে, দিল্লিতে দুই শতাধিক সরকারি স্কুলে ২০,০০০ নতুন শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এত বছর ধরে দিল্লির সমস্ত পূর্বেকার সরকার ১৭,০০০ স্কুল নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছিল। দিল্লিতে স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের আর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল কঠোরভাবে পিটিএম (পেরেন্টস-টিচার মিটিং)-এর বাস্তবায়ন। আগে কেবলমাত্র খাতায়-কলমে পিটিএমের অস্তিত্ব ছিল। তবে কেজরিওয়াল সরকার ২০১৬ সালে এটির বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্যে একপ্রকার সন্তুষ্টি দেখা যায়। কারণ প্রথমবারের জন্য তারা তাদের সন্তানের শিক্ষার হালহকিকত সম্পর্কে সরাসরি শিক্ষকদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাচ্ছিলেন।

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং জল

ছমাস আগে দিল্লির বাসিন্দাদের ভর্তুকিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করেছিল আপ সরকার। গত বছরের আগস্টে কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছিলেন, যারা ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করেন তাদের জন্য ১০০ শতাংশ সাবসিডি ঘোষণা করেন কেজরিওয়াল। অন্যদিকে ২০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া শুরু হয়। তিনি বলেন, এই গতকাল পর্যন্ত ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৬২২ টাকা দিতে হত। তবে এখন সেটা ফ্রি। ২৫০ ইউনিটের জন্য আগে ৮০০ টাকা প্রদান করতে হত। এখন দিতে হবে মাত্র ২৫২ টাকা। ৩০০ ইউনিটের জন্য আগে দিতে হত ৯৭১ টাকা। এখন দিতে হবে ৫২৬ টাকা। ৪০০ ইউনিটের জন্য আগে দিতে হত ১৩২০ টাকা। এখন দিতে হবে ১০৭৫ টাকা।

বিনামূল্যে বিদ্যুতের পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রতিটি বাড়িতে ২০,০০০ লিটার পর্যন্ত জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেছে আপ সরকার। এই পরিবারগুলি প্রতিমাসে লিটারপ্রতি অতিরিক্ত জলের জন্য ২৮ টাকা অথবা দিনে ৮৫ পয়সা করে প্রদান করে। তবে যেসমস্ত পরিবার ২০ লিটার পর্যন্ত জল ব্যবহার করে, তাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

মহল্লা ক্লিনিক

জনসাধারণকে সস্তা এবং উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য নেবারহুড হেলথ ফেসিলিটি স্কিম অধীনে ১০০০টি মহল্লা ক্লিনিকের নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেজরিওয়াল সরকার। তবে তারা কেবলমাত্র অনুরূপ ৩০১টি ক্লিনিক খুলতে সক্ষম হয়েছিল। জ্বর, ডায়ারিয়া, ত্বকের সমস্যা, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, আঘাত এবং পুড়ে যাওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা, সামান্য চোটের ড্রেসিং এবং রেফারেল ন্যায় বিনামূল্যে মৌলিক চিকিৎসা পরিষেবা দেয় এই ক্লিনিকগুলি। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি এই ক্লিনিকগুলির মাধ্যমে ২১২টি নথিভুক্ত ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা করানো যায়।

কেজরিওয়াল সরকারের এই মহল্লা ক্লিনিক বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি কোফি আন্নান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল ডা. গ্রো হারলমে ব্রান্টল্যান্ডের মতো বিশ্বের পরিচিত অনেক ব্যক্তিত্ব এই প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন।

বিনামূল্যে ডিটিসি বাস রাইড

বিধানসভা নির্বাচনের তিন মাসেরও অনেক আগে, ২৯ অক্টোবর থেকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (ডিটিসি) বাসগুলিতে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ প্রদান করে কেজরিওয়াল সরকার। বাসের কন্ডাক্টাররা প্রত্যেক মহিলা যাত্রীকে ১০ টাকার পিঙ্ক টিকিট প্রদান করেন, যেগুলির সাহায্যে তারা বিনামূল্যে ডিটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারেন।

নরমপন্থী হিন্দুত্ববাদ

এই ধরণের উদ্ভাবনীমূলক নানা পন্থা এবং ভর্তুকি ছাড়াও বিজেপির দিক থেকে অধিকাংশ ভোটারকে নিজেদের দিকে টানতে নরমপন্থী হিন্দুত্ববাদকে বেছে নিয়েছে আপ। ২০১৫ সালে বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে জামা মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন আপকেই ভোট দেন। যদিও কেজরিওয়ালের দল এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। দলের তরফ থেকে বলা হয়, তারা যে কোনোপ্রকার জাতি এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

যদিও ধর্মীয় দিক থেকে কেজরিওয়াল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এর একটি উদাহরণ হল নিয়মিতভাবে ইফতার পার্টিতে হাজির হওয়া এবং একটি স্কাল ক্যাপ পরিধান করা।

এছাড়া জুলাইয়ের ১২ তারিখে কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ যাত্রা স্কিম অধীনে প্রথম ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এই প্রকল্প অধীনে, পাঁচটি ধর্মীয় রুটের বিভিন্ন স্থানে প্রবীণ নাগরিকদের বিনামূল্যে যাত্রা করার সুযোগ দেওয়া হয়। ভ্রমণ, থাকা, খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ বহন করে দিল্লি সরকার। এই পরিকল্পনায় থাকা পাঁচটি রুট হল দিল্লি-মথুরা-বৃন্দাবন-আগ্রা-ফতেপুর সিক্রি-দিল্লি, দিল্লি-হরিদ্বার-ঋষিকেশ-নীলকন্ঠ-দিল্লি, দিল্লি-আজমেড়-পুষ্কর-দিল্লি, দিল্লি-অমৃতসর-বাঘা সীমান্ত-আনন্দপুর সাহিব-দিল্লি এবং দিল্লি-বৈষ্ণদেবী-জম্মু-দিল্লি।

এছাড়া কেজরিওয়াল ৮ ফেব্রুয়ারির বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নিজেকে প্রভু হনুমানের ভক্ত হিসেবে পেশ করেছিলেন। তিনি হনুমান চালিসাও পাঠ করেন এবং বলেন, এটি তাকে মানসিক শান্তি প্রদান করে। ভোটের একদিন আগে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে প্রার্থনা করার জন্য কেজরিওয়াল দিল্লির হনুমান মন্দিরে গিয়েছিলেন। ভোটের দিন তার মাথায় একটি তিলকও দেখা যায়। এছাড়া সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শাহিনবাগে অবস্থানকারীদের তিনি কখনোই বলিষ্ঠ সমর্থন প্রদান করেননি।

ভাবমূর্তি পরিবর্তন

শেষ কয়েক দিনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভাবমূর্তি পরিবর্তনের জন্য একটি কর্মসূচীর সূচনা করেন। দিল্লিকে পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি সহ একাধিক ইস্যুতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন। এমনকি মোদিকে তিনি সাইকোপ্যাথ এবং কাপুরুষ বলেও আক্রমণ করেন। তিনি এও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মোদি-শা তাকে মেরে ফেলতে পারে। নোট বাতিলের মতো কেন্দ্রীয় সরকারী সিদ্ধান্তের তিনি তীব্র বিরোধীতা করেছেন। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণও চেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। প্রায় বছর তিনেক ধরে তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদিত তাকে কাজ করতে দিচ্ছেন না। তবে গত কয়েক মাসে কেজরিওয়াল তার অবস্থান বদলে ফেলেছিলেন। মোদি এবং শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যায়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং নোট বাতিলের মতো ইস্যুতে তীব্র বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করলেও সিএএ এবং এনপিআরের মতো বিষয়ের বিরুদ্ধে কেজরিওয়াল কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেননি। তিনি খোলাখুলিভাবে শাহিনবাগে প্রতিবাদের সমর্থনও যেমন করেননি, তেমনি প্রতিবাদ স্থলে তিনি পা রাখেননি। বিজেপি সাংসদ পারবেশ ভার্মা যখন তাকে সন্ত্রাসবাদী বলেছিলেন, তখন ভোটারদের সঙ্গে আবেগময় একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেন সচেষ্ট হন কেজরিওয়াল। তিনি বিশদে বর্ণনা করে জানিয়েছিলেন, এই অভিযোগে কিভাবে তার বাবা-মা ব্যথিত হয়েছেন। ভোটারদের কাছে তিনি বলেছিলেন, তিনি তার পরিবারের জেষ্ঠ্য পুত্র না সন্ত্রাসবাদী, তা ভোটারদেরই নির্ধারণ করতে হবে। নিজের শারীরিক সমস্যার কথা বলেও তিনি ভোটারদের আবেগে সুড়সুড়ি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অ্যাকিউট ডায়াবেটিসের কারণে তাকে দিনে চারবার ইনসুলিন নিতে হয়। যদিও দেশের জন্য তিনি দুবার ১৫ দিনের অনশন আন্দোলন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আইপিএলের প্রস্তুতিতে মাঠে নামলেন এমএস ধোনি

প্রতিযোগিতা আদতে ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে কোভিড-১৯ এর কারণে সেটা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। ভারতে এই ভাইরাসের...

স্ত্রীকে ঈদের উপহার হিসেবে মার্সিডিজ গাড়ি দিলেন শাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরকে ঈদ উপলক্ষে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি উপহার দিয়েছেন। আপাতত এই দম্পতি মার্কিন...

করোনা আতঙ্কটাই এখন হয়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসার রসদ

বিশ্বজিৎ মান্না এই মাসের শুরুর দিকের কথা। মায়ের জ্বর। বেশ কয়েকদিন। প্যারাসিটামল, ক্যালপলেও সারেনি। অতএব, বাড়ির সবাই বিষয়টা নিয়ে...

ফেসবুক টাইমলাইনে নেই দিন গোনার অপেক্ষা, এখন শুধু করোনা আপডেট

অঙ্কিতা পাল ও মা মা! এবার দুগ্গা পুজো হবে না! ও মা বলো না! দুগ্গা ঠাকুর এবার আসবে না?

Recent Comments

error: Content is protected !!